Monday, March 20, 2017

আধ্যানের ডায়েরি - আমি আমার মতো

আমি শুধু শুনে যাচ্ছি।  কোনো এক্সপ্রেশন না দিয়ে , Poker ফেস করে শুনে যাচ্ছি। যত দিন যাচ্ছে , বড় যত হচ্ছি তত ব্যাপারটা বেড়ে যাচ্ছে।  যে পারছে, যা পারছে, যেমন ভাবে পারছে আমাকে তাদের মতো বানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।  চেষ্টা কিছু করছে না।  শুধু মুখেন মারিতং জগৎ।  আমি নাকি তাদের মতো।  কানাকে কানা বলতে নেই খোঁড়াকে খোঁড়া বলতে নেই, তবু বলছি এই সমস্ত ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্টওয়ালা হ্যাংলা মূর্খ গুলো আমাকে যখন তাদের মতো বলে তখন মনে হয় এক দিই কানের গোড়ায়।  নেহাত এখন দিলে ওদের সুড়সুড়ি লাগবে , আর আহা বলে "সুড়সুড়িও যেন দিদির মতো দেয়। " বলে আমার মাথা গরম করবে তাই দিচ্ছি না। 

সবথেকে এগিয়ে আছে বাবা আর মা। যবে থেকে পৃথিবী ভেজাচ্ছি তবে থেকে একবার ' আধ্যান ঠিক আমার মতো ' বলে বলে আমার এফোর্ট গুলো সব মাঠে মেরে দিচ্ছে।  বাবা তো সেই দু মাস পর থেকে বেপাত্তা।  ফোনে ডায়লগ , 'খাঁচাটা কিন্তু আমার মতো পুরো।' হাইলি পলিটিকাল কমেন্ট।  মানে যে জন্তুই ভেতরে থাকুক না কেন, সার্কাস কিন্তু 'ফেমাস' . মাও রায়বাঘিনী , 'উঃ রংটা দেখেছো। তোমার ওই কালো সোনা , এ সোনায় খাদ মেশেনা ডায়লগ ছাড়ো। আমার ছেলে আমার মতো।' রঙে কি এসে যায়।  চূড়ান্ত রেসিস্ট কমেন্ট।  বাবা আবার সেক্সিস্ট উত্তর , ' ছেলেদের রং আবার কি?' অথচ মাঝে মাঝেই বলে ওঠে , 'রোদে দিয়ে দিয়ে কালো করে ফেলেছ।' দুজনেই হিপোক্রিট।  বাবা তো আইফোনের ওপর থেকে দেখে তাই সব কিছুই আননেসেসারি কিউট লাগে।  কোথা থেকে আবার মাঝে মাঝে নিজের ছোটবেলাকার ছবি তুলে এনে কম্পেয়ার করে।  পাশাপাশি রেখে আবার বিচার। বাবা মা দুজনারই হাতির মতো গড়ন আর হাতির মতো চোখ।  ভুরু ওঠেনি যবে থেকে তবে থেকে শুরু করেছে 'চোখ দুটো আমাদের মতো'। কয়েকদিন আগে শুনলাম বিশাল চিন্তিত , ' আমাদের থেকে চোখ গুলো এটলিস্ট বড়ো হবে' . আরে গাধা গুলো গরুর মতো চোখ বড় করে কি হবে। গড়ন ও মোটেও তোমাদের মতো আমি করতে দেবো না।

কয়েকদিন আগে আবার বিশাল ঝগড়া চলছিল।  উত্তাল।  এ ওকে শব্দের বোমা ছুঁড়ছে , তো ওদিক থেকে পেটো।  মাঝে একটা কথা কানে এলো , 'সেই জন্যই আধ্যান কে মাঝে মাঝে সম্বিতের মতো লাগে।' সম্বিৎ আমার পাড়ার কাকু।  মায়ের সাথে কাজ করে , বেঁটে , মোটা কালো।  একদম পারফেক্ট কদাকার। মায়ের ওপর রাগ ঝাড়তে শেষে এই কমেন্ট।  জাস্ট ডিসগাস্টিং।

শুধু ইন্ডিভিজুয়াল আইডেন্টিটি নয়, বসে বসে দুজনে প্যাটার্ন ম্যাচিং করে।  সাথে আবার আমার সো কল্ড গ্রেটার ফ্যামিলি 'এতে গন্ধে পুষ্পে ' করে।  'আমাদের বাড়ির মতো ' . বাবার দিক থেকে , 'মাথা ভরা ঘন চুল , ঠিক আমাদের বাড়ির মতো। ' আমার বাবার দিকে সব পেটমোটা আর মায়ের দিকে সব খ্যাংরাকাঠি।  কিন্তু সবার মাথায় তারকাঠির মতো কালো চুল।  শুধু দাদুর মাথায় বিশাল টাক,  সাথে সিল্কি চুল।  ব্যাস আমি মায়ের বাড়ির মতো।  আমার মাথা ভরা সিল্কি কালো চুল।  দাদুর দাদার ঘন কালো চুল।  পুরো টাগ অফ ওয়ার।  কয়েকদিন চলার পর দু বাড়ি ছেড়ে দিলো। মা আবার কয়েকদিন পর খুঁচিয়ে শুরু করলো।  না না না না না।  এতো আমার বাড়ির মতো।  আঙ্গুল গুলো লম্বা লম্বা।  বাবাও বললো না না না না এতো আমার বাড়ির মতো মাথাটা কত বড় দেখেছো , অর্ডার দিয়ে হেলমেট বানাতে হবে। 

শুধু ফিজিক্যাল এপেয়ারেন্স নয় আমার প্রতি অঙ্গসঞ্চালন কারোর নামে লাগিয়ে দেয়।  বসে বসে বিশ্লেষণ করছি সিংহের ল্যাজটা ভাঙবো না সিংহটা টিভির দিকে ছুঁড়ে মেরে টিভি ভাঙবো।  কমেন্টস এল , ' দেখেছো দাদুর মতো গম্ভীর ' . ঘুম থেকে উঠে আমার এলাকা দেখে নিচ্ছি ঘুরে ঘুরে আর মা সমানে চেষ্টা করে যাচ্ছে এক জায়গায় বসে খাওয়ানোর , বলে উঠলো , ' মাসির মতো ছটফটে' . মাও চেষ্টা করছে গান গেয়ে ঘুম পাড়ানোর আমিও সুর সাধছি , বাবা বলে উঠলো , ' কাকা জ্যাঠার মতো গলা ' . পরে গিয়ে চিৎকার করছি বাবার আওয়াজ  , ' চ্যাঁচায় পুরো মায়ের মতো ' কোনো কমপ্লেক্স কাজে ভুল করছি , মানে ধরো বন্ধ দরজা খোলার চেষ্টা, মার সুযোগ , 'পুরো বাবার মতো গাধা।'  ডিম কলা মিক্সিতে পেস্ট করে অখ্যাদ্য গোবর বানিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা চলছে , প্রচন্ড প্রতিবাদ করছি , ' কাকার মতো খাওয়াতে এলার্জি ' বাবা ওদিক থেকে হাততালি দিচ্ছে , কয়েকদিন কপি করে আমি বোর হয়ে গেলাম বাবা হলো না।  বলে বসলো , ' পিসির মতো মুডি ' . আর পারছি না। কোনদিন হয়তো  বলে বসবে , ' কাকুর মতো হাগছি আর জেঠুর মতো মুতছি।'  কোনো ভরসা নেই এই আহাম্মকদের। কারণ কয়েকদিন আগেই বলেছে , 'মামার মতো বমি করি ' উফফ. আর পারিনা এদের নিয়ে। 


আসলে কিছু না।  বিরিয়ানি ভালো হলে সবাই বলে আমি তেল এনেছি , আমি জায়ফল দিয়েছি , আমি ভাত সেদ্ধ করেছি , আমি মাংস মেরিনেট করেছি , কেউ কেউ গ্যাস জ্বালানোর বাহবাও নেয়।  আমি এখন টল , ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম , উইথ ভুবনভোলানো হাসি।  যে চায় তাকে প্রসাদ দিয়ে দি।  তাই লাইন দিতে হবে। দখল নিলে চলবে না।  আমি মুক্ত এক মুক্তো।  গলায় পরে সুন্দর হতে পারো , বানাতে পারবে না।  এই রে , এই কমেন্টে আবার বাবা মা বার খেয়ে বসো না।  মানছি তোমরা প্রচুর এফোর্ট দিয়েছো।  কিন্তু সরি।  আমি আমার মতো।  একটু প্রাক্টিক্যালি চিন্তা করো।  অনেক তো বড়ো হয়েছো।  একটু বুঝমানও হও।  চিনি তোমাদের , জল তোমাদের , লেবু তোমাদের , গ্লাস তোমাদের , এমন কি চামচটা পর্যন্ত তোমাদের কিন্তু যা পরিবেশন হচ্ছে সেটার নাম শরবৎ।  তাই বেশি বার খেয়ো না।  ভালো বানিয়েছো বলে নাম কিনতে পারো।  কিন্তু শরবত চিনির মতো হয় না , বা জলের মতো হয় না। আমি আমার মতো।  সেরা এবং বেস্ট।          

Thursday, March 2, 2017

....প্রেম পাবে। ...

প্রেমের লেখা লেখো না আর ? না।  কেন ? আসে না।  কেন আঘাত পেয়েছো।  প্রেমে তো আঘাত থাকেই।  তাহলে ? জানিনা।  সুন্দর দেখলে সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে ইচ্ছা করে না।  করে।  কিন্তু ছুঁতে ইচ্ছা করে না।  কেন ? ছুঁলেই তো লালন করতে হয়।  যা সুন্দর তাকে সঙ্গে নিয়ে চললে ভালো তো লাগবেই।  তাকে লালন করতে বাধা কিসের। শিশুকে লালন করতে করতে একদিন তো সে প্রশ্ন করে।  তোমার কাছে কি কোনো উত্তর নেই ? আছে তো।  কিন্তু সে উত্তর তো গ্রাহ্য হয় না।  গ্রাহ্য না হলে কি সেটা উত্তর নয়? উত্তর বটে , কিন্তু গ্রাহ্য নয়।  অগ্রাহ্য উত্তর তো অসংলগ্ন দেয়ালের মতো উদ্বায়ী।  তাহলে তুমি চাও তোমার প্রেম তোমাকে গ্রাহ্য করুক।  অবশ্যই , অগ্রাহ্যে উপেক্ষা আসে।  আর উপেক্ষায় দূরত্ব। তাই প্রেম নিতান্তই ভঙ্গুর।  কাঁচ ও তো ভঙ্গুর তবু বেলোয়ারী।  তাইতো সৌন্দর্য্য আছে চিরন্তনতা নেই।  তাই প্রেম পায় না আজকাল।  আগে তার মানে পেতো ? অবশ্যই।  তাহলে চিরন্তনতার অভিলাষ বয়সের সাথে কি বৃদ্ধি পেয়েছে? বলতে পারো।  সামনে সামনে তখন অনেক কিছু ছিল , তাই ক্ষণভঙ্গুর আশা উচ্চাশার সাথে পরিবর্তন প্রত্যাশিত এবং অভিনন্দিত ছিল।  আর এখন ? এখন সামনে যেমন আছে , পেছনে ঠিক তেমনি ফেলে এসেছি।  তাই গায়ের দগদগে ঘা নিয়ে আর ইচ্ছা করে না প্রেমের ধুপ জ্বালাতে। ভয় হয় ? নতুন প্রেমের  গন্ধ ছড়াতে নিজেই জ্বলতে হবে বলে ? হয় তো।  সাথে পুরোনো প্রেমের নস্টালজিয়ার ধোঁয়া আজ কালো।  তারমানে তুমি এসকেপিস্ট।  বলতে পারো।  জ্বলে দগ্ধ  হয়ে শেষ হয়ে যাওয়ার থেকে , পালিয়ে বাঁচলে ক্ষতি কি ? এতো নিজেকে অবজ্ঞা করা।  প্রতিদিন মৃত্যু।  এই কি তুমি চাও? না চাইনা।  কিন্তু  প্রয়োজনে করতে হয়।  আর মনের যে প্রয়োজন? মন সর্বদা পারিপার্শ্বিকের দখলে।  তার মানে তুমি চাও পুরোনো প্রেম নতুন করে তোমার কাছে প্রেম চাইতে আসুক। প্রেম পুরোনো বা নতুন হয় না।  পরিবর্তিত হয়।  যে প্রেম লেখা হয় , তাতে উদ্দামতার মদ থাকে।  ধীরে ধীরে সেই এলকোহল উবে যায়।  পরে থাকে ক্বাথ , প্রয়োজনীয় ক্বাথ।  আমি চাই সেই ক্বাথে আবার সেই নেশা জেগে উঠুক।  আর জাগাবে কে ? তুমি তো চাও সেই ক্বাথ নিজেই নিজেকে আবিষ্কার করুক।  ঠিক তাই।  তাহলে তো  ভাগ্যের হাতে নিজেকে ছেড়ে  দিয়েছো।  হয়তো দিয়েছি।  সেতো পুরুষোচিত নয়।  পুরুষও হার মানে।  না , হারলে শেষ হয়ে যায়।  আমি তাহলে নপুংসক।  ঠিক ধরেছো।  আমি নিজেতেই খুশি।  আমার কাছে সব আছে।  আমি আমায় প্রেম করি।  তাই প্রেম আসে না।  আসে আত্মকেন্দ্রিক উদ্দাম আনন্দ।  নিজেকে ভালোবাসার আনন্দ।  সেই প্রেম তো লিখি।  তাহলে প্রেম মরেনি ? মরেছে প্রেমিকা।  যেদিন নতুন বা নতুন মোড়কে পুরানো এসে তোমার আত্মকে সিংহাসনচ্যুত করবে সেদিন তুমি আবার প্রেমিক হবে।  না , আমি এখনো প্রেমিক শুধু তথাকথিত নই।  সে আসবে নুতন বা পুরাতন হয়ে, শুধু আমার সৃষ্টির সফলতার উচ্চপ্রশংসা নিয়ে।  আমি আমার থেকে তার আমি হবো। তখনিই আবার লেখনীতে ফুটে উঠবে ছন্দ , গন্ধ , গীতি।