Saturday, February 18, 2017

আধ্যানের ডায়েরি -- সর্দি কাশি


ওই আসছে। আসছে , আসছে , আসছে। হ্যাঁচ্চো আবার হ্যাঁচ্চো।  উফ বাঁচলাম।  কিন্তু না একটু পরে আর বাঁচবো না।  আচ্ছা আমি শিশু বলে কি বড়ো হইনি? আমার কি অসুখ হলে ওষুধ খাবার রাইট নেই।  সর্দি কাশি কি আমি ইচ্ছা করে করেছি। টেম্পোরারিলি তোমাদের ওপর আমার দায়িত্ব দিয়ে রেখেছি।  হোটেলে যেমন সব কিছু হোটেলের দায়িত্ব , এখানেও তোমাদের। তোমরা টেম্পারেচার মেইনটেইন করতে পারছো না।  আর আমি একের পর এক সর্দি কাশিতে ভুগছি।  বাবা মা এফ এম সি জি হলে আগে কনসিউমার কোর্টে কেস ঠুকে দিতাম।  চূড়ান্ত গাফিলতি।  আরে বাইরে বরফ পড়ছে , আমার কিউরিওসিটি তো জাগবেই।  হাজার হোক নতুন পৃথিবী , এক্সপ্লোর তো করতে হবে।  ডেঞ্জার সাইন কি আমার বাবা দেবে।  থুড়ি  , বাবাকেই তো দিতে হবে।  সে ব্যাটা এখনো হাজার মাইল দূরে।  ঠিক আছে , নার্সটা তো দেবে।  আমি দিব্যি গিয়ে ঠান্ডা দরজায় হাত লাগালাম , আর যায় কোথায় , হ্যাঁচ্চো হ্যাঁচ্চো স্টার্ট।  একটু বেশিই কনফিউসড হয়ে গেছিলাম।  দিলাম হাত , আর সুড়সুড়ি এলো নাকে।  পরের বার সোজা গিয়ে নাক ঠুকে দিলাম।  তাতে হাঁচি তো হলোই , নাকের ওপর আবার লাল দাগ।  ডিফিকাল্ট , সিরিয়াসলি , পৃথিবীটা বেশ জটিল।  এই যে আমার মহান মাতৃদেবী যেটাকে ঘর বলে , সেটা একটা অবাক জায়গা। জানলায় হাত দিলে ঠান্ডা আর  ঘরের মাঝখানে বসে থাকলে ঘাম ছাড়ে।  মাঝে মাঝেই দেওয়ালে একটা বাক্সের সামনে দাঁড়িয়ে , একবার সত্তর একবার বাহাত্তর কি সব মন্ত্র বলতে থাকে আর নব ঘোরাতে থাকে। 

মাঝখানে আমি মোটামুটি নিয়ম করে ফেলেছিলাম।  শুক্রবারে শরীর খারাপ করতাম। শুক্র শনি রবি ঘ্যান ঘ্যান করে মায়ের বারোটা বাজিয়ে আবার সোমবারে ঠিক হয়ে যেতাম।  আচ্ছা এই ফাঁকে আমার ঘ্যান ঘ্যানের ডিটেলস দি।  সর্দি কাশি হলে আমি কেন গুষ্টির সবাই ঘ্যান ঘ্যান করে।  কিন্তু আমি করলেই তাকে  ঘ্যান ঘ্যান বলা হয়।  যেহেতু আমার এনার্জি বেশি , তাই আমি বাকিদের মতো ঝিমিয়ে পড়িনা। চিৎকার টাকে কমিয়ে দি।  সেটাকে এই বিদ্যার ডোবাগুলো ঘ্যান ঘ্যান নাম দিয়েছে।  একদিন ইচ্ছা করে নেতিয়ে পড়েছিলাম।  ও বাবা তুলে নিয়ে ডাক্তারের কাছে চলে গেলো।  মা মোটামুটি আরেকটু হলে কোলাপ্স করে যেত।  থাকে বাবা একটাই নার্স। এখানে আবার কাজের লোক পাওয়া যায় না।  তাই মেনে নিলাম এই নোংরা ওয়ার্ড।

আর এই শরীর খারাপের কারণ আর কিছু না।  ওই ডে কেয়ার।  এমনিতে জায়গাটা আমার বিশাল পছন্দ।  সব আমার মতো গুরুজন পীড়িত লোকজন থাকে।  বেশ পছন্দ ছিল জায়গাটা।  ওর ডিটেলস অন্যদিন লিখবো।  যাইহোক , কিন্তু ওর মধ্যে একজন দুজন ছিল যারা এই সর্দি কাশি বাড়ি থেকে নিয়ে আসতো।  একটা মেয়ে আবার আমায় শিখিয়েছিলো জিভ দিয়ে নাকের ঠোঁটের ওপর চাটতে।  বেশ নোনতা নোনতা লাগে। শিকনি পুঁছে দিলেও নোনতা স্বাদটা যায়না।  ওর সাথে খেলা করতে করতে মাঝে মাঝে আবার শিকনি আদান প্রদান করতাম। হয়তো সেইসব কারণেই আমার এই সর্দি কাশি সারতো না। 

কিন্তু সব কথার শেষ কথা , বড় তো হতে হবে।  আমার বাবা মার্ মতো তুতুপুতু গদাই গণেশ আমি কিছুতেই হবো না।  সলিড , রোবাস্ট এন্ড ম্যাচো।  আর তারজন্যে লাগে ইমিউনিটি।  আর তার জন্য হোয়াইট ব্লাড কোর্পাসল এর মাসল স্ট্রং করতে হবে।  আর তার জন্য তাদের লড়াই এর জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।  তারপর তো হারতে হারতে শিখবে।  এইটুকু নলেজ নেই আর বড়ো বড়ো ফুটানি।  মাঝে মাঝে মনে হয় বড় হয়ে এদের স্কুলে পাঠাতে হবে।  আমার কাছে এরা নেহাতই শিশু।  এদের সাথে থেকে থেকে আমার ধার কমে যাচ্ছে।  যেদিন কথা বলতে শিখবো , সব ভোঁতা হয়ে যাবে।  তারপর স্কুলে দেবে এদের বোকা বোকা পড়াশুনা করতে।  উফফ কি জ্বালা। 

সে থাক , সবাই নিজের নিজের ভাগ্য নিয়ে জন্মেছে।  সেদিন ক্যাথরিন বলছিলো ওর মা নাক পরিষ্কার করার টিস্যু ফেলে না।  ওটা শুকিয়ে গেলে আবার সেটা দিয়েই নাক পরিষ্কার করে দেয়।  তার থেকে আমার মা অনেক বেটার।  কিন্তু টেম্পারেচার কন্ট্রোলে আহাম্মক।  আস্ত গর্ধব।  ল্যাজ শুধু খসে গেছে।  শুধু কিছু হলেই বাবার ওপর চ্যাঁচায় আর আমার নাকে নুন জল দেয়। 

এই সেই অত্যাচার , যার বিরুদ্ধে আমাদের জেনারেশন সোচ্চার। সেই যবে থেকে জন্মেছি।  তবে থেকে পাঁচবার এই সর্দি কাশির জন্য হাজির হয়েছি ডাক্তারের কাছে।  আর ডাক্তার অনেক ঢং দেখিয়ে।  এপিঠ ওপিঠ , উল্টে পাল্টে , ঝুলিয়ে দেখে একই কথা বলে গেছে, "এক বছরের আগে কোনো সর্দি কাশির মেডিসিন নেই।  শুধু নাক দিয়ে নুনজল ঢালো।" এই যে সব বড়ো বড়ো হোতারা চার চোখ দিয়ে আমার ডায়েরি গিলছো তোমাদের যদি নাক দিয়ে জল ঢোকানো হতো তবে কেমন লাগতো।  বিপ্লবীদের নাক দিয়ে দুধ ঢোকানোর সিন বলতে বলতে তো চোখ দিয়ে জল পরে।  আর আমার আমার বেলায় নিজেই ইংরেজ।  লজ্জাও করেনা।  এক কাকু এসে আবার বললো , "যত বেশি সর্দি তত বেশি নুনজল।" আমিও বললাম , "যত বড়ো মাথা তত বেশি গোবর।" আওয়াজ বেরোলো , "আয়্যাক।" কাকু বললো , "দেখলি আমায় সমর্থন করলো।" আমি মাথা চাপড়ে চুপ করে গেলাম। 

সত্যি এই নৃশংস প্রথা বন্ধ করতে হবে।  নয় ইকুয়াল রাইটস নিয়ে আসতে হবে।  ছোটদের নাকে যত কলসি , বোর্ডের নাকে তত পিপে।  শুধু কষ্টই হয় না , সাথে জিভের স্বাদও চলে যায়।  যেটা খুব এম্বাররাসিং।  দেখতে পাচ্ছি আপেল স্বাদ আসছে খিচুড়ির।  দ্যাটস নট ফেয়ার। 

যাইহোক শেষমেশ দাদু এসে রক্ষা করলো। এখন আমি আর দাদু সকাল সন্ধ্যে বাথরুমে ঢুকে গরম জল চালিয়ে স্টিম নি।  প্রথম দিন বোমকে গেছিলাম।  ধোঁয়ায় ভরা ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছিলো।  কিন্ত এখন বেশ ভালো লাগে। আস্তে আস্তে ঘাম বেরোতে থাকে। সমস্ত স্পোর গুলো খুলে যায়।  মাথাটা খালি হয়ে যায়।  টোটাল ডিটোক্সিফিকেশন।  এতো আরাম হয় যে বুঁদ হয়ে যাই।  কিন্তু বেরিয়ে মায়ের কথা শুনে আমার সর্বাঙ্গ জ্বলে যায়।  একটা ভয়ঙ্কর অঙ্গভঙ্গি করে বিচ্ছিরি ন্যাকা ন্যাকা টোনে বলে ওঠে , " ওরে আমার লাল বাঁদর এলো রে।" আমি জাস্ট মাফ করে দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে ইগনোর মারি।  অসহ্য। .......


Tuesday, February 14, 2017

আধ্যানের ডায়েরি -- পাসপোর্টের দিনে


মা ফোনে বাবাকে পর পর কি সব নম্বর বলে যাচ্ছে একটা ছোট কালো ডায়েরি থেকে। স্বভাব কৌতূহলে "কৈ দেখি দেখি " বলে লাফিয়ে উঠে মায়ের কোলে বসে পরতে মা আমার সামনে তুলে ধরলো আমার পাসপোর্ট। আমার চোখে ভেসে উঠলো সেই ভয়ঙ্কর দিনটা।  বাবার তখন প্রায় সময় হয়ে এসেছে দেশে ফেরার। কিন্তু ছেলে জন্মে গেছে এদেশে।  তাই দেশে ফেরানোর জন্য এখন ভিসা লাগবে। আর ভিসার জন্য লাগবে পাসপোর্ট। তাই তড়িঘড়ি পড়িমরি করে ছেলের পাসপোর্টটা আগে করতে হবে।  আর দেশি হ্যাংলামো তো আছে।  ফাঁকতালে এখানে আমাকে ঠুকে দিয়ে নিজে এখন মার্কিন পাসপোর্ট ওয়ালা ছেলের ফুটেজ খাচ্ছে।  কিন্তু সেদিন চৈত্র বৈশাখ ফাল্গুন গুষ্টির পিন্ডি কিছু একটা মাস , কিন্তু বাবার চোখে দেখেছিলাম আমার এই সর্বনাশ। তখনও  আমি সোজা হয়ে উঠে বসতে পারিনা। বেশির ভাগ সময় ঘুমোই আর বাবার জন্মগত ডিফেক্ট হচ্ছে ঘুমন্ত লোকেদের বিরক্ত করা।  কাকুকে দিয়ে হাতখড়ি , মায়ের ওপর হাতসাফ করে এখন আমার পেছনে লেগেছে।  ডিসগাস্টিং, ইরিটেটিং এন্ড ইত্যাদি ইত্যাদি ফেলো।   যখন লোকে ঘুমিয়ে থাকে তখন লোকে ভগবানের কাছে থাকে।  বিশ্বাসই করে না।  কারণ জানে তো যা নাক ডাকে কোনো রম্ভা মেনকা ছাড় , এক্সপোর্টেড ত্রিবেণী ঘাটের ডোম যে কিনা এখন যমের বাথরুম সাফ করে সেও বাবার কাছে ঘেঁষবে না।  তাই বাবার কাছে ভগবান শুধুই টগোবান। বেশি বলতে গেলেই বলবে কর্মই ধর্ম।  আর কর্ম না করে ঘুমোনো পাপ।  ওরে বাপ্ তোকে কে বোঝাবে ঘুম মানে কর্মের চাকায় তেল দেওয়া। বোঝেনা তাই আমার এই পাসপোর্টটাকেও দিলো তিন বছররের জন্য চটকে।
            আমার তখন সবে দুধ ঘুম আসছে।  প্রায় ঢলে পড়েছি দিদার কোলে।  আর তখনি দেখি হালুম করে ঝাঁপিয়ে পড়লো। কি না আমার একটা ছবি তুলতে হবে।  পাসপোর্ট সাইজ। ডকুমেন্ট এ আছে। দিদার কোল থেকে তুলে নিয়ে একটা সাদা তোয়ালের ওপর শুইয়ে দিলো।  হেব্বি বিরক্ত হয়ে গেলাম।  হেব্বি।  মানে কি আর বলবো।  এখন বলতে গিয়েই গা রি রি করছে।  দু তিনটে খচাৎ খচাৎ ছবি তুলে ছবি গুলোকে দেখতে লাগলো।  আমার দিকে কোনো নজর নেই।  বোকার মতো মাটিতে শুয়ে ন্যাজ নাড়াচ্ছি।  তখন তো আবার উল্টাতেও পারতাম না।  জাস্ট নিজেকে আনওয়ান্টেড মনে হচ্ছিলো।  কোনো ছবি বাবার পছন্দ হলো না।  একবার ক্যামেরার স্ক্রিন দেখছে একবার আমার দিকে দেখছে আর চুক চুক চুক চুক আওয়াজ করে চলেছে।  সেই সর্দারের সাদা পাতার জেরক্স করে যেমন কপি মেলানর জোক্স আছে ঠিক সেরকম।  এমনিতেই বাবার ফার্স্ট চান্সের প্রতি আমার এবং স্বয়ং বাবার নিজের ওপর কোনো কনফিডেন্স নেই।  তাই আমি একটু নড়ে চড়ে বডিটাকে তৈরী করে নিলাম যাতে এবার যে পোস দিতে হবে ছবি তোলার জন্য তাতে শারীরিক কোনো ক্ষতি না হয়।  এখন তো আর আমি বাবার ছেলে নোই , বাবার ক্যামেরার অবজেক্ট।  তাই নিজের ডিফেন্স নিজে মেন্টেন করা অত্যন্ত জরুরি। হলোও তাই। মেক ডেকে ছবি দেখাতে দেখাতে বললো তোয়ালে কুঁচকে যাচ্ছে।  ঠিক থাকে ছবি উঠছে না।  ওকে বরঞ্চ বসার পজিসনে দেওয়ালের গায়ে ধরো।  আমি ওর মুখের শুধু ছবি তুলি।

         য়াঁ ???? বলে কি রে ? শেষমেশ ঝুলিয়ে দেবে।  কি কাটা ধানে মোই দিয়েছি রে বাবা। কিন্তু তখন বাবার ওপর কথা বলার মতো শিরদাঁড়া সোজা হয়নি।  মাও হান্ডা গঙ্গারাম।  আমাকে তুলে "প্রাইস পেয়েছি" এরকম একটা পোস দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকলো।  উদ্যেশ্য আমার একটা হাসি মুখ বার করা। কি জ্বালাতন বলো তো। কাউকে দেখেছো পোঁদে ফোঁড়া নিয়ে হায়েনার মতো হাসছে।  আমার একে  এই চূড়ান্ত  আনকমফোর্টেবল পসিশন তার উপর টাঙিয়ে দেওয়ার ভয়।  এই নিয়ে কেউ হাসতে পারে।  দিলাম না হাসি।  যা করবি কর তোরা। কিন্তু অসহায় হলেও প্রেস্টিজে সেন্স তো আছে।  শেষে একটা নিতান্ত গম্ভীর পোস দিলাম, যেটা আমি জানি কোনো দিক থেকে ইম্প্রেসিভ নয়।  কিন্তু হ্যা শেষমেশ বাবা রণে ভঙ্গ দিলো। 

             আমাকে তো খাটিয়ে নিলো। কিন্তু কিছুক্ষন পরে মা খ্যাঁক খ্যাঁক করে তেড়ে এলো বাবার দিকে , "তোমার কি সত্যি কোনো কান্ডজ্ঞান নেই। এটা প্রিন্ট ও করতে হবে।  আর তো হাতে সময় নেই। " বাবার হা করা মুখ টা "ও মা তাইতো " ও বলতে পারলো না।  হঠাৎ দেখি তীরবেগে সবাই দৌড়োদৌড়ি করছে।  বুলেটের মতো ছোটাছুটি।  আমাকেও দেখলাম সটাসট কারসিটে এঁটে দিলো।  দিদা নড়লো না।  পাথরের মতো খাট আগলাচ্ছে।  দাদুকেও বিছানা টানছিলো কিন্তু মা টানতে টানতে নিয়ে গেলো , পাসপোর্ট অফিসে। থুড়ি পোস্টঅফিসে।  এখানে পোস্টঅফিসেই পাসপোর্ট হয়। 
            আমার তখন ঘুমে চোখ জ্বলছে আর ঘরে তখন উত্তেজনা ও গরম।  গাড়িটা ছাড়তেই এ সি জোরে হয়ে গেলো। গাড়িতে থাকলে আমায় নিয়ে বিশেষ কেউ ঘাঁটাঘাঁটি করে না।  এই সুযোগ।  তারপর আমার আর কিছু মনে নেই।  চোখ খুললাম দেখি নতুন লোক।  একটা সাদা মহিলা। ওয়েক আপ ওয়েক আপ করে ন্যাকামো ওয়ালা শব্দ বার করছে।  কোথায় তখন আমি স্বপ্নে ফুটবল খেলছি আর জনতার দিকে ফ্লাইং কিস ছুড়ছি আর এরা দিলো তুলে। দেখলাম নাটের গুরু বাবাও আছে।  পাত্তাই দিলাম না।  আমি চোখ বন্ধ করে সবুজ ঘাসে আমার বুট ডুবিয়ে দিলাম।  বেশ কিছুবার সেম জিনিস বার বার ঘটলো।  প্রত্যেকবার চোখ খুলতেই বাবার মুখ দেখেই বুঝতে পারলাম ব্যাটা এর শেষ না দেখে ছাড়বে না।  ঠিক আছে যেমন কুকুর তেমন আমিও মুগুর। মাঝমাঠে দৌড়ে ড্রিবল করতে লাগলাম।  মাঝে মাঝে মাঠটা দুলে দুলে উঠছিলো বটে তবে আমিও মাঠ ছাড়ার লোক নই।  একসময় ঝড় থেমে গেলো।  পৃথিবী শান্ত হলো।  আর আমার কপাল পুড়লো। 

ছমাস পর আজ যখন মায়ের হাতে আমার চোখ বন্ধ করা পাসপোর্ট ছবি দেখলাম তখন প্রচন্ড রাগ, দুঃখ অভিমান ইত্যাদি ইত্যাদি হলো।  পুরো প্রেস্টিজে গ্যামাক্সিন।  এই ভ্যালেন্টাইন ডে তে আমি শপথ নিচ্ছি নেক্সট তিন বছর আমি কিছুতেই প্রেম করবো না।  কি বলবে মেয়েরা এই ঘুমন্ত ছবি দেখে।  যে নিজের মোস্ট ইম্পরট্যান্ট আইডেন্টিটি ক্যাপচারের দিনে ঘুমিয়ে থাকে সে কি করে অন্যের রেসপনসিবিলিটি নেবে।  বাবা, তুমি আমার সামনের তিন বছর খারাপ করে দিলে। আমিও দেখে নেবো।