Saturday, December 9, 2017

41) আধ্যানের ডায়েরী - স্টিম খাওয়া



সর্দি জিনিসটা বেশ ভোগাচ্ছে।  মাঝে মাঝেই কথা নেই বার্তা নেই এসে হাজির।  জিনিসটা কি জিনিস আগে বুঝতাম না।  এখন খেয়ে দেখে বুঝেছি মা যে নুনজল ভেতরে ঢোকায় সেটাই সর্দি হয়ে বেরিয়ে আসে নাক দিয়ে।  কিন্তু বেরোলে বেশ লাগে।  বেশ মাথা হালকা হয়ে যায়।  কিন্তু যখন বেরোয় না তখন আমার প্রাণ অষ্টাগত।  কে যে বার করেছে এই রোগটা কে জানে।  আমি অনেক বার ভুগে এইটুকু বার করেছি যে কিছুতেই একে আটকানো যাবে না।  এ আসবেই।  যেকোনো কারণে সে আসবে।  

আগে যখন এক নাগাড়ে সর্দি হতো তখন মা বাবার মধ্যে ঝগড়া হতো।  বাবা তো ডিয়ার ফ্রেন্ড তাই মাঝে মাঝেই তুলে নিয়ে বলতো চল তোকে বাইরে ঘুরিয়ে আনি।  বাইরে গেলেই কত জায়গা।  পার্কিং লটে সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে।  গাড়ি যায় , গাড়ি আসে।  কত রং তাদের আর তাদের চাকা গুলোর গন্ধ কি সুন্দর।  যে গাড়ি এসে দাঁড়ায় সে গাড়ির চাকায় দাঁত বসাতে খুব ইচ্ছা করে।  কিন্তু বাবা পার্কিং লটে কিছুতেই চোখহারা করে না। ইচ্ছা করে ছুটে যাই লুটে নিয়ে চলে আসি।  কিন্তু ছুটে যাই বটে , ধরিও বটে।  কিন্তু হাতে আসে শুধু ধুলো।  তাইই একটু চেটে নিই।  বাবা আমাদের গাড়ি থেকে জলের বোতল বার করে হাত ধুইয়ে দেয় , বেশির ভাগ সময় হাত ধোয়ানোর চক্করে জামাও যায় ভিজে আর মা পেয়ে যায় কারণ।  

মায়ের ধারণা আমাকে টেডি করে রাখলে নাকি আমার সর্দি লাগবে না।  করেও রাখতো কিন্তু আমি তো বলী, দুর্বলের যেমন ঘুম হয় আমার তেমন ঘাম।  ঘেমে নেয়ে  কাপড় ভিজে যায়।  তখন বাবা খুঁজে পায় সর্দি লাগার কারণ।  

ডে কেয়ারে আমাদের মাঝে মাঝেই ওয়াটার গেম হয়।  সবাইকে নিয়ে গিয়ে একটা জলের ফোয়ারার সামনে ছেড়ে আসে।  আর আমরা জল নিয়ে খেলতে থাকি।  কি মজা যে হয়, কি আর বলবো।  সবাই মিলে এ ওর গায়ে জল ছুঁড়ে মারি আর গা ভেজাই।  আমি আবার সবকিছুতেই একটু বেশি এক্সপেরিমেন্টাল।  আমার এক্সপেরিমেন্টের সাবজেক্টের অভাবের জন্য নিজেই নিজের গিনিপিগ।  আমি নিজেই নিজেকে ভেজাই।  মা সবসময় আগে থেকে এই ওয়াটার স্পোর্টস এর খবর জানতে পারেনা, ধরতে পারে যখন ভেজা জুতো নিয়ে বিকেলে বাড়ি ফিরি।  সপসপে জুতো খুলিয়ে মা বাবা দুজনেই কারণ খুঁজে পায় সর্দি লাগার।  

বাবার লাগে গরম আর মায়ের লাগে ঠান্ডা।  বাবা ঠান্ডাতেও ফ্যান চালিয়ে শোবে আর মা আমাকে গরমের মধ্যেও লেপচাপা দেবে।  হিটার চালিয়ে ঘর আগুন করে রাখে মা।  আর বাবাও ফ্যান চালিয়ে কাঁপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।  মাঝখান থেকে আমি কাটা পড়ি।  আমি তো হট।  তাই আমি ঘামি খুব।  কিন্তু মা চায় আমি লেপের তলায় থাকি। কিছুক্ষন থাকি , ভিজে চুপচুপ হয়ে হাপুচুপু খেয়ে লেপ থেকে বেরিয়ে এসে ঠান্ডা ফ্যানের হাওয়ায় ভিজে গা এলিয়ে কনকনে ঠান্ডা হয়ে যাই কিছুক্ষনের মধ্যে।  ব্যাস পরের দিন আমার সর্দি আর বাড়ি কুরুক্ষেত্র।  

এরকম হাজার হাজার কারণ আছে আমার ঠান্ডা লাগার।  মাঝে মাঝে দুজনেই বলে ওঠে , “শেষমেশ ডাস্ট এলার্জি হলো নাকি .”  এই ডাস্ট এলার্জির চক্করে মা কার্পেট ঘষে ঘষে সুতো তুলে দিচ্ছে।  কিন্তু আমার সর্দি আর সারছে না। কিছুদিন অন্তর অন্তরই ডাক্তারের কাছে ছুটছি আর ডাক্তার বলছে , “নো মোর মাঙ্কি জাম্পিং অন দা বেড. ” আই মিন , আর জলে খেলা নয়।  শুধু নাকে জল দাও আর স্টিম খাওয়াও।  

এই স্টিম খাওয়ানোটা এক অদ্ভুত ব্যাপার।  প্রথম দিন বুঝতেই পারিনি ব্যাপারটা কি হচ্ছে।  আমরা সবাই মিলে বাথরুমে ঢুকে পড়লাম।  আমার আবার বাথরুমটা বেশ খেলার জায়গা।  আগেই বলেছি কমোটে জিনিস ফেলতে আমার বেশ লাগে। ফ্লাশ করতে করতে তো আমার তুরীয় দশা চলে আসে।  ঘোর লেগে যায়।  কিন্তু প্রথম যে দিন স্টিম খেলাম কেসটা একদম অন্যরকম হলো। প্রথমেই মা বাথটবের শাওয়ারটা  চালিয়ে দিলো।  আর পর্দা দিলো টেনে।  ওদিকে বাবা আমায় কোলে নিয়েই দরজা দিলো বন্ধ করে।  আমি গুবলেট পাকিয়ে গেলাম।  শাওয়ার চলছে অথচ স্নান  করছি না।  দরজা বন্ধ করে হাঁদার মতো দাঁড়িয়ে আছি।  একিরে বাবা।  তার থেকে ঘরে গিয়ে খেলা করি।  না , দেখি বাবা মা চুপ করে কিছু একটার জন্য অপেক্ষা করছে।  ইতিমধ্যে মা আবার বেসিনের কল দিলো চালিয়ে। গরম জল বেরোচ্ছে আর আমরা হাঁ করে দেখছি।  কিছুক্ষনের মধ্যে দেখি বাথটাবের ওখান থেকে ভোগলে ভোগলে ধোঁয়া বেরোচ্ছে।  আর এদিকে বেসিনের থেকেও তাই।  আমি গেলাম ঘাবড়ে।  ধীরে ধীরে ধোঁয়ায় ঘর ভরে গেলো।  আগে একবার এরকম হয়েছিল।  মা রান্নাঘরে এরকম কিছু একটা করতে গিয়ে সারা ঘর ধোঁয়ায় ভরিয়ে দিয়েছিলো।  আর আমি অনেক্ষন ধরে কেসেছিলাম।  মনে আছে আমার নিঃস্বাস নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছিলো।  এবারও তেমন কিছু হতে চলেছে ভেবে বাবাকে বেশ কিছুক্ষন ধরে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বোঝাচ্ছিলাম।  

কিন্ত কিছুক্ষন পর দেখি কেসটা অন্য।  যত ধোঁয়া ভরতে লাগলো তত আমার নাক খুলতে লাগলো।  বেশ কিছুক্ষন পর দেখি দুটো নাক দিয়েই নিঃস্বাস নিতে পারছি।  আর যে সর্দিগুলো নাকে গুটলি মেরে ছিল সেটা নরম হয়ে বেরিয়ে আসতে লাগলো। কিন্ত একি ? আয়নায় তো আর আমাকে দেখতে পারছি না।  কেমন একটা ফ্যাকাসে মতো রং হয়ে গেছে আয়নার।  ওদিকে আমি ঘেমে যেতে আরম্ভ করলাম।  বাবা হঠাৎ হাত দিয়ে আয়নার ওপর হাত বোলাতেই আমার কাঁচুমাচু মুখ আয়নার মধ্যে থেকে দেখা যেতে লাগলো। আমিও করবো , কিন্তু নিচেই গরম জল।  বাবা এবার আমায় নিয়ে বাথটবের পর্দা খুলে শাওয়ার বন্ধ করে ঢুকে পড়লো বাথটাবের মধ্যে।  কি স্বাগতিক গরম এই জায়গাটা।  আমার চামড়া লাল হয়ে গেলো।  নাক থেকে একটা ঘাম টপ করে মুখে এসে পড়লো।  মায়ের দিকে তাকিয়ে বললাম ছেড়ে দে মা এবার।  কিন্তু মাও তো “আমার লালু “ বলে গল্ টিপে দিলো।  গা জ্বলে গেলো আমার এই আদিখ্যেতা দেখে।  

ধীরে ধীরে সব ঠান্ডা হয়ে গেলো। আমি তততক্ষনে লাল ঘেমো বাঁদর। মাঝে মাঝেই হাই তুলছি।  যে বাবা এতক্ষন বলছিল হাঁ করে স্টিম খা।  সেই বাবাও ভিজে জবজবে।  ঘাম এক্সচেঞ্জ করছি আমি আর বাবা। একটা তোয়ালে দিয়ে মুড়িয়ে আমায় বাইরে নিয়ে আসা হলো।  আমি  সেদিন প্রমিস করেছিলাম আর যাবোনা কোনোদিনও।  কিন্ত এই ঘটনা দিনের পর দিন ঘটতে থাকলো।  আর আমি একই ভাবে সহ্য করে যেতে লাগলাম।  কিন্ত আজও বুঝতে পারিনা কেন এই অত্যাচার।         


আধ্যানের ডায়েরি

Thursday, December 7, 2017

বাঙালি ও জয় শ্রী রাম


আজকাল নানা ফেসবুক গ্রূপে ঘুরতে ঘুরতে মাঝে মাঝেই চোখে পড়ছে “জয় শ্রী রাম” ধ্বনি।  একটা করে ছবি পোস্ট আর তার নিচে “জয় শ্রী রাম” লেখা। আবার বলছে ভালো লাগলে শেয়ার করবেন। কেউ কেউ সময় মেপে বলে দিচ্ছে দু সেকেন্ডের মধ্যে লাইক করুন।   কেউ কেউ আবার বলছে “হিরোদের জন্য তো লাইক দিতে পারেন শ্রী রামের জন্য কতগুলো লাইক পরে দেখি ” . সবথেকে সাংঘাতিক হচ্ছে কমেন্টস সেকশানে। যেখানেই গরম ডিসকাশন সেখানেই মাঝে মাঝে “জয় শ্রী রাম ” । পাকিস্তানে এটাক করেছি “জয় শ্রী রাম” , সকালে ব্রাশ করে প্রথম পোস্ট “জয় শ্রীরাম” , সাপোর্টিং “জয় শ্রীরাম” , এমনি এমনি জয় শ্রীরাম, জাগো হিন্দু “জয় শ্রীরাম ” ভাগো মুসলিম “জয় শ্রীরাম” হাগো বাংলা “জয় শ্রীরাম ”।   ব্যাপারটা ভালোই।  বাঙালি শেষমেশ ধর্ম কর্মে মন দিয়েছে।  ভাগ্যিস কমুনিস্ট গর্মেন্ট গেছে , নাহলে পুরো একটা গোটা জাতি এক সাথে নরকে চলে যেত।  কারণ “জয় শ্রী রাম ” স্লোগানের বদলে স্বর্গের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র লো গ্রেডেড ডিফিকাল্ট প্রোপাগান্ডা ।  এখন কত কি দেখা যাচ্ছে বাংলার পথে ঘাটে।  ছোটোবেলা থেকে দেখে আসা গ্রানাইট পাথরকে হঠাৎ করে লাল সিঁদুরে চুবিয়ে হনুমানের মন্দির।  এক মাইল লম্বা “জয় শ্রী রাম ” চিৎকার করা মিছিল। মিছিলে আবার শুধু তরোয়াল।  আচ্ছা রামায়ণে তরোয়াল কি বলা ছিল।   কানফাটা শব্দে সেই চিৎকারের সুরটা কিন্তু একেবারে মডার্ন।  ইন্টারনেটে খুঁজেই ফেললাম।  প্রথমে তো প্যানপ্যান ঘ্যানঘ্যান মিষ্টি সুরের “জয় শ্রীরাম” পেলাম।  সেতো এটা নয়।  খুঁজতে খুঁজতে শেষমেশ পেয়ে গেলাম ডি জে মিক্সটা।  অসাধারণ।  কানে লেগেই আছে।  মডার্ন ভাবে ধর্ম কে না নিলে ধর্ম বাঁচবে কি করে। বাঙালি চিরকালই পরিবর্তন কে সাদরে অভ্যর্থনা করেছে আর এখন তো পরিবর্তনের জোয়ার।  উলঙ্গ কালীর লাল জিভ ইস টু ভালগার।  তাই কালীর প্রসাদ ওল্ড মঙ্ক ছেড়ে আসল রামে মজেছে বাঙালি।  রাম যদিও জীবৎকালে কখনো বাঙালিকে পাত্তা দেননি।  এপার বলো বা ওপার বাংলা রামায়ণে ঠিক মহাভারতের মতো পান্ডববর্জিত জোলো জায়গা বলে স্রেফ “থূ” বলে বাদ দিয়ে দিয়েছিলেন।  কিন্তু তাতে কি। মহম্মদ তো ধানের ক্ষেতও দেখেননি।  কিন্তু যে কালীর নাম নিয়ে বিবেকানন্দ সাগরপাড়ি দিয়েছিলেন সে তো জংলী ইল-কালচার্ড -আদিবাসী - ব্যাকওয়ার্ড - ট্রাইবাল গডেস।  বিবেকানন্দ স্মার্ট , কারণ অনসাইট গেছিলেন আর চিকাগোতে স্কচ খেয়েছিলেন , কিন্তু  “জয় শ্রী বিবেকানন্দ” সাউন্ডস অড , এবং উচ্চারণেও বেশ কষ্ট।  বেশিরভাগ মহান উপন্যাসে মূল চরিত্রের নাম ছোট্ট।  গোরা , অর্ক , অমিত , নবীন , অপু , ফেলু  ইত্যাদির মতোই রাম সহজকথ্য ও সহজপাচ্য। এখন সব কিছু কিপ ইট সিম্পল।  তাই রাম রক্স।  গৌরাঙ্গ বলতেই দাঁত ভেঙে যাবে আর বাকি সব আনন্দ যোগ করা ব্রম্ভানন্দ , প্রেমানন্দ, যোগানন্দ , নিরঞ্জনানন্দ , সারদানন্দ , শিবানন্দ , তুরীয়ানন্দ , অভেদানন্দ , অদ্বৈতানন্দ তো সিম্পলি ইগনরেবল। লাটু মহারাজের লাটু তাও খায় কিন্তু  “জয় শ্রী লাটু” তে শেষে হসন্ত নেই বলে এন্ডটা ঠিক ঠাক হচ্ছে না।  রামকৃষ্ণ একটু রাম ঘেঁষা , কিন্তু পরমহংস জুড়েই গন্ডগোল করে ফেলেছে।  ডি যে মিক্স হবেই না।  আসলে ভদ্রলোকের ভদ্রতা বেড়ে বেড়ে “মা কালীর দিব্যি” খাওয়া উঠেই গেছে।  তার ওপর ওগুলো আবার বাংলাজাত।  বাংলা খেয়ে মাতাল হওয়ার থেকে “জয় শ্রী রামে” একটা দেশ দেশ ঘ্যাম আছে।  ফ্রম অযোধ্যা টু শ্রীলংকা। ফ্রম অনুষ্কা শর্মা টু জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ।  রামকৃষ্ণ মিশন বা বেলুড় মঠ করেছে কি ? পড়িয়েছে , পৃথিবীর সবথেকে বোরিং কাজ। পড়াশুনা করে  কি হবে, তার থেকে কুল হও “জয় শ্রী রাম” বলো আর অ্যাকশন ওরিয়েন্টেড বজরং দলের সাথে মিশে যাও। বজরং নাম শুনলেই হনুমানের ম্যাচো ইমেজ চলে আসে ভুঁড়িওয়ালা বাঙালির মনে। ইস্কন বলে “কৃষ্ণের ফুল ছিঁড়োনা” আর বজরং বলে চুমু খেতে দেখলেই থাপ্পর।  কে দেশের ভালো করছে বলতো। অফিসে বসের লাথি আর বাড়িতে বৌয়ের ঝ্যাঁটা খেয়ে কারো ওপর ঝাল তো মেটাতে হবে।  এইসব দলই তো সেই সুযোগ করে দেবে।  সাথে কচি মেয়েগুলোকেও একটু আধটু টিপে টাপে দেওয়া যাবে। তাই “জয় শ্রীরাম”। বাঙালি অকাল বোধন ছাড়া এতকাল রামায়ণ থেকে বিশেষ কিছু নেয়নি। এমনকি সারা দেশের দিওয়ালিতে হয় লক্ষী পুজো , আর আমাদের কালী পুজো।  তাইতো বাংলার কোনো উন্নতি নেই। নো লক্ষী,  নো টাকা।  রামের অযোধ্যা জেরুসালেমের পরেই ধর্মস্থান হিসেবে পৃথিবী বিখ্যাত। আর কন্ট্রোভার্সিতেও।  কেউ কি মিনমিনে তুলসী কাঠের মালা ও চন্দন পরা চৈতন্যের মায়াপুরের নাম জানে? এখন ধর্ম মানে জীবনধারণ না।  মুসলিমদের যদি জেহাদ থাকে তো আমাদেরও  ধর্মযুদ্ধ।  পলিটিকাল পার্টি প্রথমে ধর্মসঙ্কটে পড়েছিল , ধর্ম আগে না ভোট আগে।  অনেক ভেবে যখন ভোটেই ভোট পড়লো তখন ডিস্টেন্স এটাক করতে রামের তীর আর হনুমানের জ্বলন্ত ল্যাজ সবথেকে বেশি এফেক্টিভ।  তাই “জয় শ্রী রাম” । রামের সাথে যে সব একশান গুলো জড়িয়ে আছে আমার মনে হয় না আর কেউ অতো উত্তেজনা দিতে পারবে।  রামনবমীর মিছিল না থাকলে হিন্দুরা মুসলমানদের মহরমের জবাব দেবে কি করে। তীর ছুঁড়ে রাবন না জ্বালালে পাইরোটেকনিক ইন্ডাস্ট্রি বেঙ্গলে বাড়বে কি করে। আমাদের ট্রাডিশনাল দেবদেবীও সফিস্টিকেটেড নয়।  মনসা বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না, শেতলা কিছু বললেই চিকেন পক্স , কালী খড়্গ হাতে ল্যাংটো হয়ে দৌড়ে বেড়ায় , কৃষ্ণের নাহয় সুদর্শন চক্র ছিল কিন্তু বাঙালি কৃষ্ণ তো ম্যাড়মেড়ে , শুধু বাঁশি বাজায় প্লাস ক্যারেক্টর খারাপ। রাজপরিবারের প্রপারলি গ্রূমড রামের চরিত্র আর তীর একমুখী এবং এটাও তো মানতে হবে রাম ছোটবেলা থেকে পলিটিকাল এনভায়রনমেন্টে বড় হয়েছে।  দেশ ভালোই চালাবে।  আর হ্যাঁ বাঙালি মেয়েদের খুব বার বেড়েছে।  মুখে মুখে কথা বলে।  রাম আসলে টাইট দেবে অগ্নিপরীক্ষা দিইয়ে দিইয়ে।  সবকটা পুড়ে মরবে।  শুধু সেগুলো টিকে থাকবে যাদের পিষে মারা যায়।  ব্যাশ আর কি চাই।  ধরো আর ব্যবহার করো , তারপর ছুঁড়ে ফেলে দাও।  লব কুশ পেলেই হলো।  রামরাজ্য , সত্যযুগ, আহা কি দিননা আসছে।  আমাদের চন্ডি , শীতলা , মনসা , বুড়োশিব , ডাকাতে কালী , সিদ্ধেশ্বরী , বিপত্তারিণী , হংসেশ্বরী , দূর্গা , সরস্বতী , কার্তিক , গণেশ সব নিপাত যাক। উই লাভ ইমপোর্টেড পিস। চায়না থেকে অনেক নিয়েছি এখন ভারত আমার ভারতবর্ষ। এতদিন চীনের দালালরা আমাদের দেশপ্রেমে বাধা দিয়ে এসেছে।  যে পবিত্র হিন্দুস্থানে লেখা হয়েছে “আমার এই দেশেতেই জন্ম যেন এই দেশেতেই মরি” সেখানে আমাদের দেশ থেকে দুরে রাখা হয়েছে।  হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমোরো থেকে আমরা এখন ইন্ডিয়া থিঙ্কস এন্ড বেঙ্গল তু -মরো হয়েছে।  আমরা সবথেকে প্রগতিশীল জাতি।  ধর্মের ক্ষেত্রেও আমরা শাক্ত , শৈব ও বৈষ্ণব চিন্তা নিয়ে ভক্তি আন্দোলন করেছিলাম। আমরা পারবো আবার সেই রামরাজ্য স্থাপন করতে যেখানে নিজের বৌকে শশুরবাড়িতে ছেড়ে দাদার সাথে চলে আসবে ভাই , দাদার চটি সিংহাসনে রেখে দেশ চালাবে স্বয়ংসেবক , অজ্ঞ বিজ্ঞ বা যেমনই হোক বিধর্মীদের নাশ করবো , আর বিভীষণ খুঁজে খুঁজে যুদ্ধে যাবো জিতে। হাজার বছরের বস্তাপচা বাংলা ভাষায় লুকিয়ে থাকা রাবনের সময় শেষ হয়েছে। এবার প্রায়মৃত বাংলা ভাষা ছেড়ে ভোজপুরির আগমনের  সময় হয়েছে। বঙ্গকে যারা ব্যঙ্গ করেছে তাদের পিষে দেব পুস্পক রথ দিয়ে আর স্থাপন করবো রামরাজ্য।  হে বাংলার নবজাগরণের গেরুয়া বসনধারী অগ্রগামী পথসরিক গলার শির ছিঁড়ে চিৎকার করে বলো , “জয় শ্রী রাম ” “জয় শ্রী রাম”  “জয় শ্রী রাম”

প্রবন্ধ