Friday, October 20, 2017

আধ্যানের ডায়েরী - বাবার সাথে একা (প্রথম পর্ব)



দরজাটার দিকে জুল জুল করে তাকিয়েছিলাম।  ধপাস করে দরজা বন্ধ করে পড়িমরি করে মা দৌড়ে পালালো।  অ্যাকশনটা ঠিক বুঝতে পারলাম না।  একসাথে ইগ্নরেন্স এন্ড ইনসালট। আমি কি বেতাল নাকি, যে ঘাড়ে চেপে বসবো।  বাবার কাছে ছেড়ে রেখে দিয়ে মস্তি মারতে চলে গেলো।  আমি মাথা ঘুড়িয়ে দেখলাম , বাবা চকচকে দাঁত বার করে পেছনের পায়ে ভর করে উঠে দাঁড়াচ্ছে। আমি ছাগলছানার মতো ছটফট করতে লাগলাম।  এবার আমায় ধরবে।  ছুঁড়ে ছুঁড়ে নিয়ে খেলবে , ফেলবে , চটকাবে।  উফ , সে দৃশ্যগুলো কি নৃশংস।  ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো।  বাট ওয়ান মিনিট। আমি কেন ভয় পাচ্ছি।  লোকে আমায় টেরোরিস্ট বলে , আর আমি ভয় পাবো ওই তুচ্ছ নিরীহ বাবাকে, যে মায়ের সামনে ম্যা - ম্যা করে।  নাঃ উঠে দাঁড়ালাম।  হাত দুটো বাড়িয়ে দিলাম , সোজা কোলে।  বাবা বাহন , আর এই দিয়েই শুরু হোক আমার আর বাবার সাতকাহন। 

ব্যাপারটা একদিনের নয়।  সাত সাত দিন মা আমাকে বাবার কাছে রোজ সকালে একা ছেড়ে চলে গেছিলো। বাবা ব্যাপারটা খুব একটা জটিল কিছু নয়। মা বেশ জটিল।  বুঝতেই পারিনা কি করবো , আর মা উল্টে কি করবে।  বাবা ব্যাপারটা জলের মতো সোজা, শুধু খেলবে।  কিন্তু এই সাত দিনে হিসাবটা পুরো পাল্টে দিলো বাবা।  ফ্রম নো টাইমার টু হোল টাইমার। 

ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল গোটা উইকেন্ড প্রচন্ড শরীর খারাপের পর।  সমস্যাটা সিম্পল, আমি হাগছিলাম।  বার বার, বহুবার , সাথে ছিল জ্বর আর ডাইপার রাশ।  সব মিলিয়ে আমি উল্টে পরে শুধুই ঘ্যান ঘ্যান করছিলাম।  এই অবস্থায়  ডে কেয়ারে ফেলে রেখে আসতে মা বাবার দুজনার মন মানছিল না।  হাও কিউট।  কিন্তু আবার বাবার কাছে সারা দিনের জন্যেও ছেড়ে যেতে মায়ের মন মানছিল না।  আবার বাবার আমার সাথে একা থাকতে মন মানছিল না।  সব মিলিয়ে মন কষাকষির একটা সিকোয়েন্স চলছিল যা শেষ হলো মায়ের প্রথম দিনের ইনসালটিং এস্কেপ এ। 

এক অজানা আশংকা আমার মনেও তখন মাথা চাড়া দিয়ে উঠছিলো , আমার খাবারের কি হবে।  শুধু কি খাবার? মা তো আমার নার্স।  খাওয়া থেকে শুরু করে , ডাইপার চেঞ্জ , ন্যাপ টু স্লিপ , স্নান , ওষুধ, প্রপার এন্টারটেনমেন্ট  আরো কত কি।  সব তো মা ই করে।  বাবা তো ম্যাসকট।  শুধু খেলার সময় সামনে নাচানাচি করে।  সে কি আর পারবে আমার ফাই ফরমাশ খাটতে।  সবথেকে বড় সমস্যা ভোকাবুলারির।  ব্যাটা কিছুই বোঝে না আমার কথা।  সারাদিন আমার কি যে যাবে সেই নিয়ে বেশ চিন্তায় পরে গেছিলাম। 

মা দরজা বন্ধ করে দেওয়ার পর খেয়াল পড়লো , আমার তো ব্রেকফাস্টই খাওয়া হয়নি।  আমার ব্রেকফাস্ট সিম্পল, ওট আর য়োগার্ট।  দেখলাম বাবা গুটি গুটি মেরে বাটিটা নিয়ে বসেছে টিভির সামনে।  ট্রাইং টু মক মায়ের বিহেভিয়ার।  টিভিটা চালিয়ে দিতেই আমি অন্য জগতে চলে যাই।  কোনো সেন্স থাকে না।  এই ট্রাঙ্কুলাইজারটা পেরেন্ট দের জন্য বেশ এফেকটিভ।  যদিও বাবার মতে এটা ব্যাড হ্যাবিট।  কিন্তু আজকে দেখলাম সুর সুর করে টিভি চালিয়ে আমার দিকে জুল জুল করে তাকিয়ে আছে।  সেম জেন্ডার বলে একটু করুণা হলো।  আমিও টুক টুক করে গিয়ে আমার ইসি চেয়ারে গিয়ে বসে পড়লাম, চোখ রাখলাম টিভির দিকে।  ভেসে উঠলো , 'ইফ ইউ আর হ্যাপি - হ্যাপি -হ্যাপি ক্ল্যাপ ইওর হ্যান্ড।'

বেশ মশগুল হয়ে দেখছিলাম আর মুখে বাবা খাবার ঠুসে দিচ্ছিলো।  বিশেষ খেয়াল দিচ্ছিলাম না টেকনিকের ওপর।  কিন্তু হঠাৎ করে কি হলো দেখি বমি উঠে আসছে।  য়োগার্টের ভেতরে থাকা একটা ব্লুবেরি গলায় আটকে গেছে।  এই শুরু হলো।  মেকানিক  হাত দিয়ে কি আর কাঁথা বোনা যায়।  কোনো রকমে ম্যানেজ করে শুধু ব্লুবেরিটা বার করে দিলাম।  কিন্তু গাধা বাবা বুঝলো না প্রব্লেমটা।  আবার একটা ব্লুবেরি ভরা চামচ দিলো ঢুকিয়ে।  আবার সেই এক জিনিস।  আমি যে বাবাকে নভিসনেস এর জন্য ক্ষমা করে দিচ্ছি সেটা বোঝার ক্ষমতা বাবার নেই।  বাবা ভাবছে আমি চামচের বাকি ওট - দই চুষে শুধু ব্লুবেরিটা ফেলে দিচ্ছি।  তৃতীয় বার যখন সেম ভুল করলো, আমি বললাম 'না' , ব্যাপারটা চেক করতে হবে।  দিলাম সব উল্টে বার করে।  সারা কার্পেট সাদা।  বাবার মুখ শুকনো। 

কিন্তু ব্যাটা নেহাত নাছোরবান্দা।  আমি ভেবেছিলাম কাঁচুমাঁচু হয়ে ব্রেকফাস্টটা ছেড়ে দেবে।  কিন্ত না, আমার বমি লাগা জামা কাপড় ছাড়িয়ে, আরেক বাটি ওট দই মেখে আবার নিয়ে বসলো।  উঁকি ঝুঁকি মেরে দেখে নিলাম যে আবার আবার সেই ফলওয়ালা দই মেখেছে কিনা।  না এবার ঠিক আছে।  দই যদিও একই কিন্তু এবার ফল গুলো ফেলে এসেছে।  দেখলে তো, দরকারে মানুষ ঠিক শিখে যায়, শুধু একটা রাম ঠ্যালা ঠেলতে হয়। ব্যাপারটা যখন সেটেল হয়ে গেছে তখন আমিও টুক টুক করে পুরো খাবারটা খেয়ে নিলাম। 

বাবার একটা বড্ড বাজে অভ্যাস হলো গানের ঠিক মাঝখানে টিভিটা বন্ধ করে দেওয়া।  যেই শেষ চামচটা মুখে ঢুকেছে ধপ করে টিভিটা দেয় বন্ধ করে।  এ কেমন ধারা অসভ্যতা।  আমি যদি হঠাৎ করে খাওয়া বন্ধ করে দি তখন কেমন লাগবে।  মানছি আমার বয়সে টিভি দেখা খারাপ।  কিন্তু শুধু এই টিভির জন্যেই তো তোমরা বিনা নাচন কোদনে আমাকে খাইয়ে দিচ্ছ।  একবার গিয়ে দেখে এসো যাদের বাড়িতে টিভি নেই।  বাবা মা দের কুচিপুড়ি পর্যন্ত শিখতে হয় খাওয়ানোর জন্য।  একটু তো লজ্জা কর। 

টিভি বন্ধ হতেই আমার নেক্সট কাজ হচ্ছে কিছুক্ষন খেলা।  আমার যাবতীয় জিনিস নিয়ে বাবাকে ডিসটার্ব না করে আপনমনে খেলতে থাকলাম, যতক্ষণ না সাড়ে বারোটা বাজে।  এর মধ্যে শুধু একবার ডাইপার পাল্টে দিয়েছে বাবা।  ডাইপার পাল্টানোটা বাবার কাছে নতুন কিছু নয়।  তাই প্রফিসিয়েন্সি বেশ ভালোই।  কিন্তু অন্য সময় মা সব কিছু হাতের কাছে দিয়ে যায়।  আর বাবা রাজার মতো বসে বসে অপারেশন করে।  সেই সপ্তাহেই আরেকটা দিনে এই ডাইপার পাল্টাতেও বাবা দিলো ছড়িয়ে। 

সেদিন সকালবেলা থেকে আবার বেশ কিছুবার পটি হয়েছে। বার বার ডাইপার ছাড়াতে ছাড়াতে বাবা বেশ নাজেহাল।  আর যেহেতু বাবা ওয়ার্ক ফর্ম হোম করছে।  তাই আমাকে সরিয়ে সরিয়ে কাজ করাতে বাবার অবস্থা বেশ খারাপ। সে গল্প আলাদা করে বলবো।  সেদিন বাবা ফোন করছিলো, মনে হয় ঠাম্মার সাথে কথা বলছিলো।  হঠাৎ বুঝতে পারলো আমি আবার পটি করেছি।  আমার আবার পটিওয়ালা ডাইপার বেশিক্ষন আমার চামড়া নিতে পারেনা।  লাল হয়ে যায়।  তাই কানে ফোন গুঁজেই আমাকে ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে গেলো, ডাইপার চেঞ্জ করতে।  ঝড়ের বেগে ডাইপার খুলে দিয়েই বাবার মাথায় এলো পুঁছিয়ে দেওয়ার কাগজ তো শেষ।  আগের বারেই তো শেষ কাগজটা ইউস করে নিয়েছে। আমার পা তখন ওপরে বাবার দু হাতের মধ্যে ঝুলছে।  পটি তখনও লেগে আছে।  ষ্টকে থাকা কাগজগুলো বেশ কিছুটা দূরে।  আমি ব্যাপারটাকে আরো জটিল করে তুললাম পা ছুঁড়ে।  ওরকম ভাবে পা তুলে শুয়ে থাকতে কার ভালো লাগে।  শেষে বাবা সবসুদ্ধ আমাকে কোলে তুলে নিয়ে সোজা বেসিনে।  একটু হলেই চাদরে নাহলে পটি লেগে যেত।  সেদিনের পর থেকে বাবা এখন অনেক বেশি গুছোনো।  আমার ডায়পার ছাড়ানোর জায়গার পাশে আগে সব কিছু গুছিয়ে তারপর যজ্ঞের আগুন জ্বালায়। 

তা সেদিন যখন ব্রেকফাস্ট করে , ডাইপার পাল্টাতে পাল্টাতে সোয়া বারোটা বেজে গেলো তখন আমার মিড ডে ন্যাপের সময় হয়ে গেছে।  এই সময়টা আমার কিছুই ভালো লাগে না।  দুধোলীন দুধোলীন মন করে।  দুধোলীন কি? এমা , এতদিন ডায়েরি লিখছি দুধোলীন কি সেটা তো বলা হয়নি।  গাড়ি যেরকম গ্যাসোলিনে চলে, আমি সেরকম দুধোলীনে চলি।  এই নামটা মা দিয়েছে।  বেশ শুনতে লাগছিলো তাই এডপ্ট করে নিয়েছি।  ঘুমের আগে একটু দুধ না খেলে আমার চলে না।  সেদিন কিন্তু বাবা একটা কান্ড করলো।  বোতলটা আমি চিনি।  দুধের খিদেতে তখন খিটখিটে হয়ে আছি।  দুধের বোতল বাড়িয়ে দিতে এমন টান দিয়েছি যে নাকে মুখে চোখে ঢুকে গেলো।  কিন্তু ব্যাপারটা কি ? এতো দুধ নয়।  বোতলটা ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম।  দুধের মতোই তো সাদা।  নিশ্চই খারাপ দুধ।  আবার বাবা ছড়িয়েছে।  আমি থুহ করে কিছু সরিয়ে দিলে আমি দেখেছি মা বা বাবা প্রথমে সেটা খেয়ে দেখে।  আর তারপরেই খাবার পাল্টে যায়।  এবারও বাবা খেয়ে দেখলো।  কিন্তু কিছু পরিবর্তন না করেই, আবার ঠেসে ধরলো। আর বলতে লাগলো , 'খেয়ে না , লস্যি তো।'

লস্যি ? লস্যি আবার কি ? কিন্তু পালানোর উপায় নেই।  বাবা জোর করে ঠেসে ধরেছে মুখে।  কিছুক্ষন খারাপ লাগলেও ব্যাপারটা বেশ অন্য ধরণের।  বেশ টক মিষ্টি একটা স্বাদ।  মা নেই বলে বাবা দুধের বদলে এসব কি আমায় খাওয়াতে শুরু করলো জানিনা বাবা।  যেহেতু খেতে ভালো সেহেতু খেয়ে নিলাম।  কিন্তু পরের দিনগুলোতেও এটা কন্টিনিউ হতে থাকলো।  পরে বুঝলাম  আমার পেট ঠিক করার জন্য এই দই গোলা  খাওয়াচ্ছে।  কোথায় ওষুধ দেবে তা নয় , যত সব উটকো টোটকা। 

যাহোক, ঘুমটা বেশ ভালোই হলো।  ঘুম থেকে উঠে আবার এক প্রস্থ ডাইপার চেঞ্জ করে আমার তখন খেলার সময়।  মা যখন ঘরে আমায় একলা নিয়ে থাকে তখন ঘরের দরজা জানলা সব কিছু বন্ধ থাকে।  না যেতে পারি বেডরুমে , না যেতে পারি আমার ডাইপার চেঞ্জের ঘরটাতে।  এমনকি কিচেনের সামনেও কিছু একটা বসিয়ে দিয়ে আমাকে মা এমন ভাবে হলঘরে বসিয়ে রাখে যে নিজেকে নিজের ঘরেই বন্দি বলে মনে হয়।  কিন্তু থাঙ্কস টু বাবা , বাবার ওসব কিছু ঝামেলা নেই।  চিচিং ফাঁকের মতো সমস্ত ঘর আমার জন্যে খুলে রেখে দিয়েছে।  তাই আমার খেলার ক্ষেত্র প্রচুর। 

আমার উৎসাহে এবার দেখি বাবাও উৎসাহিত।  যদিও সেটাও আমি জোর করেই আদায় করেছি।  বাবা ল্যাপটপ নিয়ে বসেছিল।  বাবার কিবোর্ডে আবার আলো জ্বলে।  আমার কেন জানিনা মনে হয় , যত জোরে থাবড়া মারবো , তত উজ্বল আলো  জ্বলবে।  দিলাম এক থাবড়া , বাবা ল্যাপটপ বন্ধ করে আমার দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকলো।  আমি তখন আমার খেলা শুরু করলাম।  হাতের কাছে জলের বোতলটা ছিল।  এটার নাম আবার সিপি কাপ।  চুষতে হয়নাচেবাতে হয়। তাহলে জল এসে মুখে ঢোকে।  কিন্তু ওটাকেই যদি আবার কারো ওপরে চেপে ধরা হয় তাহলে আবার জল পরে। 

আমার বেশ ভালো লাগে যখন রিমোটের ওপর , বা মোবাইলের ওপর বা ল্যাপটপের ওপর ওই জলের বিন্দু বিন্দু পড়তে থাকে।  আমি সেটা দিয়েই খেলা শুরু করলাম।  রিমোটের ওপর করতে গিয়েছি বাবা সোফা থেকে হালুম বলে আমার ওপর লাফিয়ে পড়লো।  আমি ওটা রেখে সোজা বেডরুমে ঠাকুরের কাছে।  ওখানে আমার বেশ প্রিয় খেলা হলো ঠাকুরগুলোকে শুইয়ে দেওয়া।  প্রথমে শুইয়ে দিলাম।  দেখি বাবা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে।  মা থাকলে ঘ্যাউ করে তেড়ে আসতো।  বাবা দেখলাম যখন বাধা দিলো না , তখন ঠাকুরের সামনে রাখা ফুলগুলোকে এক এক করে জড়ো করলাম।  তারপর ওই যে একটা জিনিস পোড়ায় , যেটা থেকে কালো কালো গুঁড়ো গুঁড়ো পড়তে থাকে, খুব সুন্দর গন্ধ, হাতে লেগে যায়।  সেটাই একটু চেটে দেখতে গেলাম।  দেখি বাবা তুলে নিয়ে সোজা বেসিনে।  এক হাত যখন ধোয়াচ্ছে তখন আমার আরেক হাত খালি।  সেটা দিয়েই নানা ক্রিম ট্রিম সব ছুঁড়ে ছুড়ে ডাস্টবিনে ফেলতে লাগলাম।  চিরুনিটা ছুঁড়তেই সোজা কমোটের জলে।  বাবার বিশেষ দোলচাল নেই।  আমি এটা মায়ের সাথেও করেছি।  মা যদি আমার ক্যাচ ধরতে না পারে , তাহলে একটা চিমটে দিয়ে সেটা কমোটের জল থেকে তুলে রাখে।  বাবা ওসব চিমটে টিমটের  ধার ধারে না।  হাত ডুবিয়ে , চিরুনিটা না ধুয়ে রেখে দিলো। 

তবে ততক্ষনে আমায় ছেড়ে দিয়েছে  . আমি বাথরুম থেকে বেরিয়ে বেডরুম ক্রস করে সোজা রান্নাঘরে।  মা সমস্ত জিনিসপত্র আমার হাতের নাগাল থেকে সরিয়ে রাখে। কিন্তু বুঝলাম বাবা নিজের জন্য ব্রেকফাস্ট  আর লাঞ্চ করার দৌলতে আমার জন্য রান্নাঘরটা বিশাল প্লেগ্রাউন্ড বানিয়ে দিয়েছে।  সমস্ত কাবার্ডগুলো যেগুলো তার জড়িয়ে বন্ধ থাকে, সে  সব খোলা।  কি মজা।  তখন আমি কি করবো আর কি না করবো এই ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম।  সব ড্রয়ার খুলে দিলাম , একটা কাবার্ডের মধ্যে থেকে হাতা খুন্তি কড়াই আর যা যা ছিল সব টেনে টেনে বার করতে লাগলাম। ঝনাৎ করে যখন কড়াইটা ফেলে দিলাম বাবা চমকে উঠে বুঝতে পারলো এবার বাবাকে গতর নড়াতে হবে।  এক এক করে সমস্ত কাবার্ড বন্ধ করতে লাগলো।  সে করুক।  বাবা এক দিক থেকে বন্ধ করে যাচ্ছে।  কিন্তু আমার কাছ পর্যন্ত পৌঁছতে এখনো অনেক দেরি।  সেই ফাঁকে আমি ঢুকে গেছি আমাদের লন্ড্রি রুমে।  সেখানে আবার গারবেজ থাকে। 

নোংরাকে যে লোকে নোংরা কেন বলে সেটা বুঝিনা বাপু।  ওটাই তো স্বর্গ।  সব কিছুর ফ্লেভার পাওয়া যায়।  তাও আমার হাতে ধরার মতো।  সমস্ত ফলের , সবজির খোসা। গোটা ফল তো আর ধরা যায়না হাতে।  কিন্তু খোসা দিব্যি ছোঁড়া যায়।  গারবেজ ক্যানটা উল্টে দিতে বেশ কিছু জিনিস ছড়িয়ে গেলো লন্ড্রি রুমে।  বাবাকে দৌড়ে আসতে দেখে আমি ডাস্টবিন ছেড়ে এবার ড্রায়ারের দরজা ধরে এক টান মারলাম।  ওমা , এটাও তো খুলে গেলো আর আর তার মধ্যে আমার স্বর্গ।  মা জামা কাপড় শুকোতে দিয়ে চলে গেছে।  শুকনো কাপড় নিয়ে খেলতে আমার যে কি ভালো লাগে না।  দু হাতে করে ধরলাম আর ছুড়ঁলাম।  একবার পেছনে, একবার এপাশে , একবার ওপাশে।  বাবা লোপালুপি করতে করতে বেশ কিছু কাপড় বাঁচিয়ে নিলো বটে।  কিন্তু আমি বেশ কিছু ততক্ষনে ফেলে দিয়েছি উল্টানো ডাস্টবিনের মধ্যে। 

বাবা কাপড়গুলো যতক্ষণে ড্রয়ারে আবার ঢোকাচ্ছে আমি ব্যাক টু কিচেনে।  সেখানে দেখি বাবা একটা কাবার্ড তখনও বন্ধ করেনি তার দিয়ে।  ওর মধ্যে আবার মা আলু, আদা পিঁয়াজ রাখে।  পিয়াজ ইস হাইলি এট্রাক্টিভ।  শেপটা আর টেক্সচারটা অসাধারণ।  তুলে ছুঁড়ে দিলে অদ্ভুত ভাবে গড়াতে থাকে। আমায় তখন পায় কে।  সব পিঁয়াজ দিলাম এক সাথে ছড়িয়ে।  বাবা তুলে নিয়ে গিয়ে আমায় বসিয়ে দিলো আমার খাঁচার মধ্যে।  

-----বাকিটা পরের এপিসোডে ক্রমশ প্রকাশ্য  

আধ্যানের ডায়েরি

Tuesday, October 17, 2017

জ্ঞান দা ও গ্রীন কার্ড


"উফ তোরা শুধু ফলটাই দেখিস। চাষীর মাসল টাও একটু দেখ। " জ্ঞান দা ভুরু কুঁচকে বলল, "আর এখনো তো বছর খানেকের গল্প। এখনি পার্টি পার্টি করে নাচলে হবে। রিজেক্ট  হলে পয়সা ফেরত দিবি তো?" ইনি আমাদের জ্ঞান দা।  প্রচুর জ্ঞান। মোটর থেকে মটর, ব্যাটার থেকে বাটার , চড়ুইপাখি থেকে চড়ুইভাতি কোনো কিছুতেই তার জ্ঞান কম না।  ভালো নাম পৃথ্বীশ চক্রবর্তী। আমেরিকান নাম প্রিট  - এর বেশি বলাতে গেলে বেজায় সমস্যা , তাই কয়েকদিন চেষ্টা করেই মা বাপের দেওয়া নাম কথ্য ভাষা থেকে বিদায় দিয়েছে। কিন্তু আমরা যখন অন সাইটে এসে তার সঙ্গে প্রথম আলাপ হলো তখন বুঝতেই পেরেছিলাম এরকম মাল দুনিয়াতে দুটো নেই।  সব কথায় জ্ঞান দেয়। 

তা সেই জ্ঞান দার গ্রীন কার্ড হয়ে গেছে। মানে আমরা তাই মানি। কিন্তু জ্ঞান দার ভাষায় এখনো অনেক দিন বাকি। "ওরে সবে তো প্রায়োরিটি  ডেট টা কারেন্ট হয়েছে।" দীপক প্রশ্ন করলো, "তুমি এপ্লাই করেছ কবে?" "বছর ছয় হলো।" আনমনা জ্ঞান দার উত্তর।  "ভ্যাজাল বোকো না তো। " প্রতীক খিচিয়ে উঠলো, "এই তো কয়েক দিন আগেই করলে। আমরা তখন সবে জয়েন করেছি অফশোরে।" মুচকি হেসে জ্ঞান দা বলল, "কত বছর হলো এই কোম্পানি তে ভাই?" তাই তো, ক্লায়েন্ট আর অনসাইটের  খিস্তি খেয়ে খেয়ে ৬ বছর হয়ে গেল বুঝতেই পারেনি প্রতীক । বলল, "তাহলে এত বছর লাগে? আমরা তো তাহলে সব বুড়ো হয়ে যাব।" "না সবার লাগে না।  আমার মত  ক্যালাস দের একটু বেশি লাগে। আর একটু ঢাল।" গ্লাস টা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে জ্ঞানদা বলে চলল, "সত্যি অনেক দিন হয়ে গেল. আমারই ভুল ছিল মাঝখানে বিয়ে করতে চলে না গেলে এতদিনে হয়ত হয়ে যেত।"
"বিয়ে করতে গেলে কি ভিসা ক্যানসেল হয়ে যায়? আবার এপলাই করতে হয়?" প্রতীকের চোখ বড় বড় , উনত্রিশে পা দিয়েছে তো।  "ধুর বললাম না ক্যালাস ও হতে হয় আমার মত।" "তুমি মামা একটু খুলে বল তো দেখি। প্রসেস টা কি?" প্রতীক উত্তেজিত,  জ্ঞান দা শীতল পাটি ,"আগে একটা পাটিয়ালা পেগ বানা। নাহলে জমছে না।  অনেক বড় গল্প। " গ্লাসটা হাতে নিয়ে বিন ব্যাগে হেলান দিয়ে শুরু করলো জ্ঞানদা।

"প্রথমে তোর কোম্পানি কে পেপার এ অ্যাড দিতে হবে যে তাদের একটা পজিশন খালি হয়েছে। এবং তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে যদি কেউ এপ্লাই করে।  সাধারণত আমেরিকার যা অবস্থা আমাদের দেশীদের থেকে বেশি জানা লোক জন পাওয়া খুব অসুবিধা। তাই বিশেষ কেউ এপলাই করে না।"  "এই তো গন্ডগোল করলে খুড়ো। যে দেশে মাইক্রোসফট আপেল এর মত কোম্পানি আছে সে দেশে তোমার আমার কাজ করার লোকের অভাব?" "যা অ্যাড দিয়ে দেখ।  কটা লোক পাবি আমাদের মত দশটা জিনিস একসাথে জানে, সাথে আবার এক্সপেরিয়েন্স আছে এবং সস্তা।  এরা স্পেশালিস্ট।  একটা জিনিস ধরে সারাজীবন বসে থাকে। আমাদের মত সব জিনিস হাতরায় না।  কিন্তু এখন যুগ মাল্টি-টাস্কিং এর।  এতেই বাছাধনরা উল্টোয়। এরা এতটাই......" "আচ্ছা ছাড়ো তুমি তোমার কথা বল।" আমি বাধা দিয়ে বললাম। "হ্যা আমার কথাই বলছি। আমার এই কোম্পানিটি  তখন খুব ছোট ছিল।  মোটে কুড়িটি লোক এদেশে আর জনা একশ দেশে। যাদের ভিড়ে তোরাও নাম লিখিয়েছিলিস।

তখন আমার তখনকার বস - মিস্টার কুট্টি। অনেক ভেজিয়ে ভেজিয়ে বললাম এবার গ্রীন কার্ড টা এপলাই করুন? তা সে বলল কালকের Detroit Free Press এ ad দিয়েছে। যদি লোক মেলে তাহলে এবারের মত হলো না।  না মিললে আমার নামে গ্রীন কার্ড ফাইল করবে।" "তাহলে তুমি কি এখনো সেই পোস্ট এই কাজ করছ যার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল?" "না ঠিক সেটা নয়।  কিন্তু ওই বিজ্ঞাপনে যে qualification এর লোক লাগত।  আমি তখনি সেই দক্ষতা অর্জন করেছিলাম। " এমন ভাবে বলল যেন অর্জুনের ধনুর্বিদ্যা।  " আমি তো প্রমাদ গুনছিলাম, যদি কোনো মাল এসে রেসুমে জমা দিয়ে আমার সবুজ বাতি লাল করে বেরিয়ে না যায়. কিন্তু কপাল আমার খারাপ হলেও ঠিক সময় সাথ দিয়েছিল।  সময়টা ডিসেম্বর। হ্যাপি হলিডে সামনেই ছিলো । দু তিনটে খাজা গজা যারা এলো তারা সবাই একে কে বাতিল হয়ে গেল। আর আমার লেবার ফাইল করা হলো।" "লেবার?" "পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন। তোদের ভিসা হওয়ার সময়ও একই জিনিস ফাইল করতে হয় কিন্তু সেটা temporary এরা এটাকে PERM বলে। এই ফর্ম দিয়েই কোনো এখানকার কোম্পানি কোনো বিদেশী কর্মী কে এখানে কাজ দিতে পারে।" "আর যারা টপকে আসে তাদের?" "তাদের তো জামাই আদর।  ওদের কথা ছাড় আমাদের আর চীনের জন্য যত কিছু নিয়ম কানুন।"

"তা কতদিনে তোমার লেবর approve  হলো?" "বেশিদিন লাগেনি। ৪ - ৫ মাসের মধ্যে এসে গিয়েছিল। তারপর যখন ই-১৪০ ফাইল করলাম তখন আমায় একটা ডেট দিল, মানে আমার লেবার ফাইল ডেট।  বলল ওটা রোজ চেক করতে। নতুন নাম দিল - প্রায়োরিটি ডেট। এটাই সবথেকে জটিল ও গুবলেট ব্যাপার।" "ডেট মানে তারিখ তো ? তোমাকে তারিখ দিল মানে।" "তোকে একটা তারিখ দেবে ধর সেপ্টেম্বর ২০০৫ হচ্ছে তোর তারিখ।  এটা তোর প্রায়োরিটি ডেট।  আর ভিসা বুলেটিন এ একটা ডেট থাকবে যেটা কারেন্ট ডেট। তোর প্রায়োরিটি ডেট যখন কারেন্ট ডেট হবে তখনই তুই পরের স্টেজ এ পৌছবি। কিছু বুঝলি?" "ঘেঁটে ঘ।", আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল।  "ধুর তোরা দেখছি আমার থেকেও গাম্বাট। ল্যাপটপ টা বারা , তোর পায়ের কাছে পরে আছে।" আমি বাড়িয়ে দিতে বলল , " তুইই খোল বরঞ্চ , বডি ৪৫ ডিগ্রী এঙ্গেল এ থাকলে মাথাটা দিয়ে ৯০ ডিগ্রী বানালে স্ট্রেসটা বেশি পরে।  নিজে কর , শিখবি বেশি।" আরো ঘেঁটে গিয়ে ল্যাপটপ খুলতেই পাসওয়ার্ড চায়।  আমি জ্ঞান দার দিকে তাকাতে বলে , "নিয়ে আয়।" মুঠোটা উল্টো করে মধ্য আঙ্গুলের পেছনের গাঠ টা ফিঙ্গারপ্রিন্ট  scanner এ ঘষে দিতেই ল্যাপটপটা অন হয়ে গেল।  আমি বিষম চমকে উঠলাম। "ওটা তো ফিঙ্গার প্রিন্ট scanner?" জ্ঞানদার সেই মুচকি হাসি, "ওটা বায়োমেট্রিক scanner , তুই নাক ঘশলেও সেটাই তোর আইডেন্টিটি হয়ে যাবে।  কিছু পরবি না তো জানবি কথা থেকে। সিকিউরিটি দেখলি? একে বলে।" বিজয়ীর হাসি দিয়ে বলল, "ভিসা বুলেটিন লিখে গুগল কর।"

আমি জায়গায় পৌছে গিয়ে দেখলাম দুটো মাসের ক্যালেন্ডার দেওয়া আছে।  এই মাসের আর পরের মাসের। সবাই আমার ঘাড়ের ওপর ঝুঁকে পড়ল, "দুটো কালেন্ডের দেখছি যে।" "ওই দুটোই আমার গত ছ বছরের জগাই আর মাধাই। ওখানেই তুই দেখতে পাবি তোর এই মাসে কোন ডেট টা কারেন্ট আর কোন ডেট টা সামনের মাসে কারেন্ট হবে।  এমাসের টা বিশেষ কোনো কাজের নয়।  কিন্তু পরের মাসের যে ডেট টা কারেন্ট হবে সেটা যদি তোর প্রায়োরিটি ডেট এর পরে কোনো ডেট হয় তখন তুই আগে বাড়তে পারবি। এবার বুঝলি?" প্রতীক হাত বাড়িয়ে মাউসপ্যাডে পাতাটা ওপর নিচ ওপর নিচ করে সব গিলছিল। এবার বলল, "কিন্তু এখানে দেখব কি ভাবে। এসব কি? employment  based এক দুই তিন চার.. একি পুরুত দেরও গ্রীন কার্ড দেয় নাকি?"

"হে হে বাবা। সবারই হয়।  এখানে যারা পুরুত তারাও উচ্চশিক্ষিত। কিছু একটা পাশ টাশ ও করতে হয়।  ঠিক ঠাক জানিনা।" আমাদের চোখ আরো বড় বড়।  না না পুরুতের গ্রীন কার্ড এর জন্য নয়।  জ্ঞান দার জ্ঞানের বাইরে কিছু একটা খুঁজে পাওয়ার জন্য। জ্ঞান দা তোয়াক্কা করলো না , বলে চলল ," ওই এক দুই তিন এর মানে আছে। প্রায়োরিটি আর কি।  এক হলো যারা বড় বড় লোক তাদের। মানে প্রফেসর, রিসার্চ করা লোকজন বা নানা দক্ষতায় পারদর্শী ইত্যাদি।" "আমিও দুটো ভুরু আলাদা নাচাতে পারি। আমিও পাব তাহলে।" "তোমার ভুরু আমার উরু দিয়ে পিষে দেব।  ফাজলামো করিস না।" জ্ঞান দা যখন জ্ঞান দেয় তখন তাকে বার খাওয়াতে পারো কিন্তু ফচকেমো চলবে না।  "এর মানে হলো যারা এই দেশের দুধে চিনি ঢেলে মিষ্টি করতে  পারবে কিন্তু দুধ উপচে যেন না যায়।  বুঝলি। তবে হ্যা ম্যানেজার রাও আছে এই কেটাগরি তে।  যাদের দ্বারা সত্যিই কিছু হয় না. কিন্তু কি আর করা যাবে।" আমি আর থাকতে পারলাম না, "তুমিও তো ম্যানেজার।" "আমার কথা ছাড়, আমি তো সর্বভূতে বিরাজমান। কি করিনা বল।  একটা কোড লিখতে গেলে তোদের constipation হয়।  তখন লেখে টা কে? " কথা টা গিলে নিলাম।
"তা এই প্রথম সারির লোকজন প্রথমে পায়. তার পরে দ্বিতীয় সারিতে থাকে মাস্টার ডিগ্রী আর তৃতীয় সারিতে ব্যাচেলর ডিগ্রী আর বাকি যারা যারা গাধা গরু।  আমার তোর মত."  প্রতীকের দিকে আঙ্গুল তুলে বলল কারণ আমরা বাকিরা সব মাস্টার ডিগ্রী। "এই তৃতীয় সারিতে ভিড় প্রচুর। তাই অপেক্ষাও প্রচুর। প্রথম প্রথম রোজ সকালে উঠে একবার করে দেখতাম। তারপর ইন্টারনেট explorar এর হোম পেজ করে রেখেছিলাম। এখন তো মোবাইল app হয়ে গেছে। গত মাসে সেটাই টুং করে জানিয়ে দিল  সামনের মাসে আমার ডেট কারেন্ট হবে। ব্যাস লেগে পরলাম ই-৪৮৫ ফাইল করার কাগজ পত্র ঘাটাঘাটি যোগার যান্ত্রি করতে।"

আমি বললাম, "খুব কি তাড়াহুড়ো করে করার দরকার আছে?" "যে মাসে তর ডেট কারেন্ট হবে সেই মাসের শেষ তারিখের আগে এই ফর্ম সাবমিট হয়ে যাওয়া চাই. নাহলে আবার অপেক্ষা।" "কেন? পরের মাসেও তো তোমার ডেট কারেন্ট থাকবে। ডেট কি আবার পেছোয় নাকি?" "হে হে বাবা। এটা আমেরিকা। এরা সারা দেশের ঘড়ি বছরে দুবার পেছিয়ে দেয় তো ডেট তো কোন ছাড়।  আর এর চক্করেই তো আমার গেল।" "কেন ? তোমার কি করে গেল?" "আমি তখন দেশে। বিয়েটা পরবি পর ঠিক সেই মাসেই পড়ল যখন আমার কারেন্ট ডেট প্রায়োরিটি ডেট হলো।" "কেন ওখান থেকে এপলাই করা যায় না?" "না।  এই দেখ না।  এই ফর্ম ফাইল করার কিছুদিন পরেই বায়োমেট্রিক এর জন্য নোটিশ এসেছে। মানে ওই দশ আঙ্গুলের ছাপটাপ আর কি।  তো তার জন্য তো আমাকে থাকতে হবে।  তার ওপর মেডিকাল করতে হয়।  যদি কিছু ভ্যাকসিন ট্যাকসিন নিতে হয়।  মোদ্দা কথা এখানে না থাকলে কিছু হবে না।  মধুযামিনী করে যখন গিন্নি কে নিয়ে এখানে ফিরে এলাম তখন আমার কারেন্ট ডেট দু বছর পিছিয়ে গেছে। আর সেই দু বছর কভার হতে আরো দের বছর কেটে গেল।"

"বাপরে। এত লম্বা গল্প।" "RFE আর RFI এর কথা তো বলিনি। এই যতগুলো ফর্ম বললাম। প্রত্যেকটাতেই প্রায় একই রকমের documentation করতে হয়।  কিন্তু প্রত্যেক স্টেজ এই গভর্নমেন্ট থেকে RFE বা Request for Evidence আর RFI বা Request for Information আসতে পারে। তাতে আবার অতিরিক্ত লেখালেখি বা অতিরিক্ত কাগজপত্র দিতে হয়।  এবং হা , যেকোনো মুহুর্তে যেকোনো ভুলে ক্যানসেল হয়ে যেতে পারে। তাই বলছি এখন বেশি নাচিস না।  এখনো অনেক প্রসেস বাকি। ". আমি বললাম, "আবার কি? "

"এর পরেও আছে।  Adjustment  of  Status বা ই-৪৮৫ এর approval এর পর EAD বা Employment Authorization Card এর এপলাই করতে হয়. সেটা এলে তবে তুমি যেকোনো কোম্পানি তে চাকরি করতে পারো। আর এটা ভেবনা যে বাকি জীবনের জন্য তুমি সেফ।  EAD তেও তুমি যদি তিন মাসের ওপর বেঞ্চ এ বসে থাকো তাহলে বিদায়।" "মানে গ্রীন কার্ড মানেই টোটাল স্বাধীনতা নয়?" "না চাঁদু।  যতক্ষণ না সিটিজেন হচ্ছ ততদিন তুমি সেই ঘাপটি মেরে ইয়েস স্যার ইয়েস স্যার করে যাও।" "আর সিটিজেন হলে তারপর?" "তারপর আর কি বেশি টাকা চাইবে কোম্পানির থেকে। আর কোম্পানি বলবে তোমার কাজ তো ইন্ডিয়া থেকে অফশোর কে দিয়ে করিয়ে নেওয়া যায়।  তোমাকে বেশি পয়্সা দিয়ে রাখব কেন? বলে টাটা বাই বাই। " "যাহ বাবা। তাহলে এত কষ্ট করে এখানে পরে থাকব কেন। দেশেই যাই."
জ্ঞান দা  মুচকি হেসে বলল , "স্কচ টা খা।  বেশি ভাবিস না। " 



Wednesday, October 11, 2017

প্রপোস করার ঠিক আগে




সে  আসছে।  আজ প্রপোজ করতেই হবে।  অনেকদিন বন্ধু হয়ে থেকেছি।  ফ্রেন্ডজোনে ফেলে রাখা মেয়েদের একটা খুব বাজে অভ্যাস।  ওরাও তো প্রপোস করতে পারে।  এই যে ফেমিনিস্ট প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যায় অথচ প্রপোস কেন ছেলেদেরই করতে হয় সব সময়।  কবে থেকে ইমপ্রেস করার চেষ্টা করছি। হয়েছে কি ? নিশ্চই হয়েছে।  চোখ দেখলেই বোঝা যায়।  কিন্তু চোখের দিকে তাকালেই তো হারিয়ে যাই।  কথা আটকে যায়।  কিন্তু প্রপোস করতে গেলে তো চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হবে।  কি বলবো?  আমি তোমাকে ভালোবাসি ? নাকি, আমি তোকে ভালোবাসি ? ব্যাপারটা কিরকম ন্যাকা ন্যাকা হয়ে যাবে না।  মেয়েরা আবার ন্যাকা ছেলে পছন্দ করে না।  ও কি করে ?  কবিতা পড়ে তো।  তাহলে নিশ্চই ভালোবাসে।  কবিরা তো ন্যাকা হয়।  আমিও তো কবিতা লিখি , তাহলে কি আমি ন্যাকা?  আমার লেখা গুলোতে তো লাইক দেয়।  মুখেও তো অনেকবার সমালোচনা করেছে।  মনে পড়ছে না পসিটিভ না নেগেটিভ বলেছে।   সব ঘুলিয়ে যাচ্ছে।  সিনেমা তে কি সুন্দর ভাবে গুছিয়ে প্রপোস করে। বিশেষ করে ইংলিশ সিনেমা তে।  আচ্ছা ইংলিশে বলবো কি ? কিন্তু ও তো বাঙালিয়ানা প্রমোট করে।  অথচ নভেল ইংলিশে পরে।  গোলাপের কাঁটাটা বুকে বিঁধছে।  ঠিকঠাক নড়তে পারছি না।  শার্টের মধ্যে থেকে বার করে দিতে হবে।  দেব কি ? যদি পছন্দ না করে।  গোলাপ কি ওর পছন্দ।  কি জানি।  সবাই তো বলে মেয়েদের ফুল পছন্দ।  গাঁদা ফুলও তো ফুল।  ধুর ধুর , কি সব উটকো পাটকা চিন্তা করছি।  ও আসছে।  কথা গুলো গুছিয়ে নেওয়া উচিত।  এতদিন এক সাথে ঘুরছি , কত কিছু জানি ওর সম্বন্ধে।  কি দিয়ে শুরু করবো।  রোজ যেরকম করি।  রোজ কিরকম করি ? হাই বলি ? না , রোজ তো কোনো না কোনো কাজ থাকে।  আজ কোনো কাজ নেই।  তাহলে শুরু কি দিয়ে করবো?  আজ মেঘলা দিনে একলা।  মেঘ করাটা কি খারাপ সাইন।  কিন্তু বেশ রোমান্টিক ওয়েদার তো।  বেশ মিষ্টি হাওয়া দিচ্ছে।  মিষ্টি হাওয়ার কথা বলবো?  ওর তো আবার বৃষ্টি অপছন্দ।  যদি ব্যাপারটা ঘেঁটে যায়।  বৃষ্টি কি পড়বে ? বৃষ্টি পড়া কি শুভ না অশুভ।  ধুর ছাই ,আমি কি চাষি নাকি।  আজ দিনপঞ্জি দেখে এলে ভালো হতো।  এটলিস্ট হররস্কোপ।  ও কি আমার সাথে কমপ্যাটিবল।  আমি তো টরাস  ও কি? দিনটা কি ঠিক? কোন পঞ্জিকায় প্রপোজের শুভদিন  লেখা থাকে? এই কৃষ্ণের দেশেও প্রেম নিয়ে অথেন্টিক হেল্পফুল গাইড নেই।  আজ কি তারিখ ? তেরো নয় তো।  থ্যাংক গড নয়।  কিন্তু তেরো তো আমার জন্য সবসময় শুভ।  ভালো ভালো ঘটনা ঘটে গেছে।  কিন্তু তাও সবাই বলে অশুভ। আজ কি কোনো দেশে ভূমিকম্পে লোক মরেছে।  নিউসে কি কিছু আছে।  এসেই যদি কারেন্ট এফেয়ার নিয়ে কথা বলে , তাহলে আমার এফেয়ারের কি হবে ?  রিস্ক নিয়ে লাভ কি একবার দেখেই নি আজকের নিউস? হররস্কোপে তো কোনো হরর নেই।  যদিও কুসংস্কার কখনোই ভালো নয়।  আমি তো মানিও না।  কিন্তু যদি কিছু থাকে।  এক দিনের  জন্যে মেনেও নিতে পারতাম।  আজ তো নির্ণায়ক দিন।  সব দিকে বেড়া দেওয়া উচিত ছিল।  ড্রেসটা কি ঠিক পড়েছি।  ঠিকই হবে।  কিপ এ লো প্রোফাইল।  ব্যাপারটা সাধারণ ভাবে করতে হবে। সিম্প্লিসিটি ইস দা কি।  কিন্তু চটির জায়গায় জুতো পড়তে পারতাম।  এই গরমে জুতো পড়লে পাগল লাগবে।  বেশি ফর্মাল হয়ে যাবে।  চটিই ঠিক আছে।  পায়ের দিকে কি ও তাকাবে ? তাকাতেই পারে।  মেয়েদের প্রপোস করলে নাকি লজ্জায় মাথা ঝুঁকে যায়।  ও তো লজ্জাবতী লতা নয়।  যদি খিল্লি ভাবে।  যদি হাওয়ায় উড়িয়ে দেয়।  দিতেই পারে।  আমি যা হাসি ঠাট্টা করি।  মেয়েরা আবার খিল্লি করা ছেলেদের বিশেষ পছন্দ করে না।  ওরা গম্ভীর লোকেদের জীবনসঙ্গী হিসেবে ভাবতে ভালোবাসে।  আজকের প্রপোস কি সারাজীবনের জন্য? এই কি সেই মেয়ে ? এই কি শেষ মেয়ে ? এর সাথেই কি সারাজীবন কাটাতে হবে? কি জানি।  কিন্তু জানাটা জরুরি।  যদি প্রশ্ন করে বসে ? উত্তর কি দেব?  কথা ঘুরিয়ে দেব ? মেয়েরা কথা ঘোরানো ধরতে পারে।  সারা জীবনের কমিটমেন্ট কি করে আজকে দেব? কেন দিতে পারবো না ? কনফিডেন্স নেই ? তা আছে কিন্তু চাকরি নেই।  চাকরি তো পেয়ে যাবোই।  যদি  না পাই।  মার্কেট পাশ করার পর কেমন থাকবে কি করে জানবো?  যদি বলে ওয়েট করতে।  অপেক্ষা কি জিনিস? কিসের অপেক্ষা।  আচ্ছা যদি মেনে নেয় তাহলে কি ? চুম্বন।  কোথায় ? গালে না ঠোঁটে ? স্বপ্নে তো অনেক করেছি।  বাস্তবে ? হবে কি ?  হঠকারিতা হয়ে যাবে না ? ডেসপারেট মনেকরে রিজেক্ট করে দিলে।  এটলিস্ট জড়িয়ে তো ধরতে পারি।  এটা তো একপ্রকার এগ্রিমেন্ট।
 বড্ডো পলিটিকাল ভাবছি।  আচ্ছা আমার আগে কেউ প্রপোস করেনি তো ওকে।  কোনো গোপন সম্পর্কের খবর তো আমার কাছে নেই।  কিন্তু মেয়েরা সাংঘাতিক গোপন করতে পারে।  যদি সত্যি অন্য কেউ থাকে।  ল্যাজ গুটিয়ে চলে আসবো? কি আর করতে পারি।  কিন্তু যতক্ষণ না প্রপোস করবো জানতেও তো পারবো না।  যদি জেনে যাই তাহলে তো সব গন্ডগোল।  ভেঙে গেলে জোড়া যায় মন্দির মসজিদ ভাঙা প্রাণ ভাঙা মন যায়না।  যদি প্রপোস করে আমি ওর মন ভেঙে দিই।  সত্যি তো ,বন্ধু বলেও তো একটা জিনিস আছে।  আমারও তো কত বান্ধবী আছে , তাদের প্রতি তো আমি কখনো ভাবিনি এসব।  অথচ তাদের জন্যে আমি সব কিছু করতে পারি।  ও যদি সেরকম কিছু ভাবে আমাকে।  বন্ধুত্বও  যাবে।  আমি তো ওকে ভালোবেসেছি।  ধুর ধুর , এই ভালোবাসা মানে কি।  কি চাই আমি ওর থেকে।  সেক্স।  সে তো অনেক মেয়েকেই মনে মনে ভেবেছি।  এর সাথে তো শুধু থাকতেই ভালো লাগে, কথা বলতে , শুনতে ।  আমার তো কিছুই ডিমান্ড নেই।  কিন্তু ওর কি আছে ? কোনোদিন তো কিছু বুঝতে পারিনি।  পাশে এসে বসলে একটা সুন্দর গন্ধ ভেসে আসে নাকে , পাগল হয়ে যাই।  এই যাহ পারফিউম তো লাগিয়ে আসিনি।  যদিও  স্প্রে মেরেছি বটে।  পারফিউমটা বার করে রাখলাম, জাস্ট ভুলে গেছি।  শুধু কি এই জন্যে আমাকে রিজেক্ট করে দিতে পারে।  মানুষ মাত্রই তো জন্তু।  গন্ধে বলে সমস্ত প্রাণী এট্ট্রাক্ট হয়।  কিন্তু যদি টেনশনে ঘাম বেরিয়ে গায়ে ঘামের গন্ধ হয়ে যায়।  এইতো ভেতরটা ভিজে গেছে ঘামে।  যদি পচা গন্ধ বেরোয়।  ধুর ধুর কি যে ভাবছি।  ওই তো অরুণেশ , গায়ে শুয়োর পচা গন্ধ।  ওর ও তো প্রেমিকা আছে।  ওর তো আবার ইন্টার রিলিজিয়ন।  আমার যদিও ইন্টারকাস্ট।  আমি তো লোয়ার।  এখনো কি কাস্ট সিস্টেম নিয়ে কেউ ভাবে।  যদি ওদের বাড়িতে ভাবে।  না না, ও তো অনেক প্রোগ্রেসিভ।  ওর কাছে কাস্ট ইস নো বার।  কিন্তু যদি ওর বাবার কাছে সেটা ইম্পরট্যান্ট হয়।  ওর বাবা কি ওর কাছে খুব প্রিয়।  কখনোও তো বলেনি।  বাড়ির ওপর একটু বেশিই খাপ্পা। কি জানি।  ওর ভাইটা যা।  আচ্ছা , যদি ও আমাকে সোজা না বলে, তাহলে।  যদি ভাইকে দিয়ে পেটায়।  যাঃ , পেটাবে কেন ? বন্ধুদের মধ্যে তো এরকম হয়েই থাকে।  আনফ্রেন্ড করে দেবে ম্যাক্স টু ম্যাক্স।  সে দিকগে।  এই রোজ রোজ মাথায় এই বোঝা নিয়ে টিকে থাকা যায় না।  প্রপোজ করে রিজেক্ট হয়ে গেলে , এট লিস্ট নিজের কাছে তো নিজে ঠিক থাকবো।  যদি না করি তাহলে বরঞ্চ সমস্যা।  শেষে ওর ছেলে আমাকে মামা বলবে , সেসব দেখতে পারবো না।  চেষ্টা করা আমার কাজ।  ফলাফল কৃষ্ণের গীতা।  এসে পড়েছে।  আজ শুধু ল্যাক্টোক্যালামিন মেখে এসেছে।  দূর থেকে গন্ধ পাচ্ছি।  কি সুন্দর দেখতে লাগছে।  আমায় কেমন দেখতে ?  ভুঁড়িটা আগে কমিয়ে আসা উচিত ছিল।  ওর তো গোলগাল ছেলেদের পছন্দ। আর প্রেম কি দেখে হয় নাকি।  ওর থেকেও তো অনেক সুন্দরী মেয়ে আছে।  কি আমি তো দেখিনি।  কিন্তু যদি ও দেখে।  ওর কি মাছো পছন্দ।  শেপ চেঞ্জ করা তো সমস্যা নয়।  কিন্তু ফেস।  আমাকে কি একেবারেই খারাপ দেখতে।  আমি কি ঠিক করছি?  হঠকারিতা করছি না তো? আরো কিছুদিন ইনভিভেস্টিগেশন করে তারপর ঝাঁপানো উচিত ছিল।  রিজেক্ট হলে মেল্ ইগো খুব হার্ট হবে।  যদি মেনে নেয় তবে কি আমরা ঘুরতে যাবো।  কালকে পর্যন্ত যা যা কথা বলতাম, সব কি পাল্টে যাবে।  হাতে হাত দিয়ে কথা বলবো কি ? এখনই গিয়ে প্রথমে হাত ধরি ? যদি ছাড়িয়ে দেয়।  হাত তো আগেও ধরেছি।  তখন তো ব্যাপারটা আলাদা ছিল।  পড়ে যাচ্ছিলো।  এখন কি করবো।  ধুর ধুর ধুর ধুর।  মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে।  শাহরুখ খান ছাড়া আর কিছু মনে পড়ছে না।  ডায়লগ গুলো সব ঘুলিয়ে যাচ্চে।  হাত ছড়িয়ে দাঁড়াবো।  ও কি কোনো রকম আন্দাজ করেনি। একবারও তো ভেবে থাকবে যে কেন এই সন্ধ্যেবেলা ওকে এখানে ডেকেছি।  ও তো জানে জায়গাটা নির্জন থাকে।  নিশ্চই কিছু একটা ভেবে থাকবে।  আমি কখনো ওকে বুঝতে দিই নি, যে আমার মনে কি আছে।  ওর সাথে এতো খিল্লি করা ঠিক হয়নি।  বুঝিয়ে দেওয়া উচিত ছিল যে আই কেয়ার ফর হার ।  আমার পরান যাহা চায় সে তো কুমারপাড়ায় থাকে , কিন্তু সে অনেকটা কাছাকাছি।  হে ভগবান, আল বাল ভেবে চলেছি।  কিন্ত নাহ , মাথাটা ফাঁকা করি।  আমি যা করতে চলেছি তা ভুল নয়।  আর খারাপ কিছু নয়।  চেপে রেখে গুমরে মরার থেকে বলে দিয়ে হালকা হয়ে কষ্ট পাওয়াতেও আনন্দ।  ম্যাক্স টু ম্যাক্স আমি একটা বন্ধু হারাবো আর কয়েকদিন দুঃখে ফেটে পরে ঘ্যানঘ্যান করে কিছু লোকের মাথা খারাপ করবো।  কিন্তু এই রিস্ক নিলেই সেদিনের সামনের সন্ধ্যা গুলো সোনাঝরা।  হাতে হাত দিয়ে ফুরফুরে হাওয়ায় উড়ে বেড়াবো।  থাক, ভালো খারাপ সব চিন্তা মাথা থেকে বার করে সোজা হয়ে দাঁড়ালাম।  গোলাপের একটা কাঁটা গেঞ্জি ভেদ করে চামড়া ফুঁড়ে দিলো।  মন শান্ত হয়ে গেলো।  কে যেন কানের কাছে বলে উঠলো , 'যা হবার হবে , মাভৈ।'













  

Saturday, October 7, 2017

৪) দুরন্ত সেই বিকাল


উচ্চ মাধ্যমিকের আর কয়েক দিন বাকি। মোটে পাঁচ দিন। তার পর প্রায় এক মাসের যন্ত্রনা। যন্ত্রনা পরীক্ষার তো বটেই , সাথে অটবী কে না দেখার। দিব্যর আড়া- পাড়া – প্রতিবেশী সবাই জানে দিব্য এবার ফেল করবে। ফেল না করলেও মাধ্যমিকে স্টার পাওয়া ছেলে যে নারীসঙ্গে তারকা হীন স্লিপার ক্লাসে অজানা ভবিষ্যতের দিকে রওনা দেবে সে ব্যাপারে সবাই একমত। অটবীর ভীরু চোখে তাই অপার সংশয়, “পাস করবে তো?”
        বিকালটা বেশ সুন্দর। গরম সাঙ্ঘাতিক হলেও হঠাৎ করে কোথা থেকে দমকা ঠাণ্ডা ভেজা হাওয়া এসে বেশ মিষ্টি করে তুলেছে আবহাওয়া। আজ ছিল অনিল বাবুর ফিজিক্স ক্লাসের শেষ দিন। ফাঁসির আগের দিনে শেষ দেখার মত। প্রতি বুধবারের মত আজকেও একই রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে অটবী আর দিব্য আর তাদের দুই সাইকেল চলছে। দিব্যর বাঁ হাত অটবীর সাইকেলের ডান হ্যান্ডেলের ওপর রাখা, অটবীর হাতের ওপর। প্রশ্নটা শুনে একটুর জন্যে হলেও থতমত খেয়ে যায় দিব্য, “কেন এমন বলছিস?”
“অলরেডি সবাই মনে করে আমি তোর বারোটা বাজিয়েছি।”
“ভুল জানিস। আমি জীবনে রাঙ্ক করিনি। তুই তো রাঙ্ক ছাড়া কিছু করিসনি।”
“তাতে কি? মাধ্যমিকে তুই তো বেশি, কিন্তু টেস্ট এ তুই ধ্যারালি।”
“টেস্ট কি আর ফাইনাল নাকি। দেখ না কি হয়।”
“আমার কিন্তু ভীষণ ভয় করছে তোর জন্য।”
“আর নিজের জন্য।”
“নিজের নিয়ে ভাবা ছেড়ে দিয়েছি ভগবানের ওপর।”
“বাহ । এই নাহলে উত্তর।”
“আমি কিন্তু এবার খুব সিরিয়াস। আমাদের ব্যাপারটা যতটা গরিয়েছে আমার কিন্তু আর ফেরার পথ নেই।”
“ফেরার কথা উঠছে কেন। আর ফিরবি বা কোথায়।”
“দেখ আমি অত ন্যাকামো করে হয়ত বলতে পারিনা “হে প্রিয়তম তোমার সাফল্যে আমার সাফল্য” কিন্তু কাছাকাছি কিছু একটা ম্যাটার করে। ”
“বহুদুরের কথা হলেও আমি তো প্রমিস করেছি।”
“সেই জন্যই তো সমস্যা। প্রমিস না থাকলে এক্সপেক্টেশান থাকতো না। দুদিনের খিল্লি দেন টা টা বাই বাই।”
“তুই কি এত কিছু হওয়ার পরও আমাকে বিশ্বাস করিস না।”
“প্রশ্ন টা বিশ্বাসের নয়। প্র্যাকটিকালি ভাব। তোর সাফল্যে আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ আছে।”
“এ তো প্রথম পদক্ষেপ। এত দূরের কথা আজ না চিন্তা করলেই নয়।”
“কালকের কথাও তো না চিন্তা করলেই হয়। সকালে নাও তো চোখ খুলতে পারে। তাহলে তো পরিক্ষাও দিতে হবে না। প্লিস অ্যাট লিস্ট রেসে টিকে থাকার মত রেসালট করিস। তোর কাছে এইতুকু এক্সপেক্ট করছি।”
“ভেবেছিস পুরো বখে গেছি না?”
“আমার ভয় করছে। আর কিছু না। যদি বলিস চুপ করে জেতে পারি।”

দিব্য জানে কি সাঙ্ঘাতিক সেই চুপ করে যাওয়া। অটবী কিছু বলতে গিয়ে আটকে গেলে , থেমে যায়। কেমন যেন নিঃস্ব হয়ে যায়। শুধু দু চারটে হুঁ হ্যাঁ ছাড়া আর বিশেষ কিছু বেরয় না। বাকি যে মুচকি হাসি , অঙ্গসঞ্ছালন, ভুরু কুঁচকে তাকানো বা মিথ্যা অভিমানের ঠোঁট ফলানো, সব একসাথে উধাও হয়ে যায়। দিব্যর কাছে সেগুলো অত্যন্ত মুল্যবান। অথচ আজকের দিনটাও তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ছোঁয়া, এই দুটো কথা যেন তার কাছে এক উদ্যেশ্য। অটবী হয়ত ভাবতে পারে যে তার স্বপ্ন ভাঙতে চলেছে। কিন্তু দিব্য সেই ভাবনা অনেকদিন উড়িয়ে দিয়েছে হাওয়ায়। হতে পারে প্রেমের মাদকতায় বেশ কয়েকদিন সে ফর্মুলার থেকে ছন্দকে গুরুত্ব দিয়েছে কিন্তু অনেকদিন হল সেই সে তার দুই মস্তিস্কের ওপর কন্ট্রোল এনে ফেলেছে । শুধু বুঝতে দেয়নি অটবীকে। কারন মেয়েরা সারপ্রাইস পছন্দ করে। সব মেয়ে নয় , তবে অটবী।
“না । তুই বল। যা বলছিস বল। আমার অসুবিধা নেই।”
“অসুবিধা তোর নয়, আমার। এখন যে সমস্যায় আমি পরেছি তার থেকে আমি নিজের ক্ষমতায় বেরতে পারব না। তাই শুধু বলছি।”
“একটা কথা বল। আজকে এই কথাগুলো বলে কি তোর মনে হয় আমি দু বছরের পড়া পাঁচদিনে পড়ে শেষ করে ড্যাং ড্যাং করে স্টার নিয়ে আসব।”
“হয়তো নয়। হয়ত বা। কি জানি।”
“এই উদাসীন উত্তর কারা দেয় জানিস। যারা হেরে যায়।”
“তাহলে বুঝছিস তো আমার কি অবস্থা?”
“শোন , ভরসা রাখ। পথ অনেকটা বড়।”
“তাই তো বলছি। প্লিস ফেল করিস না।”
“তুই আমার ওই কবিতা টা পরেছিস.......”
“আজকে আর তোর কবিতার দিকে তাকাতে পারছি না প্লিস। ওটা জীবন নয়। পরীক্ষার খাতায় কবিতা লিখে আসিস না।”
“বরাবরের আপত্তি তোর এই কবিতায়। ছাড় না এসব কথা। একবার ভেবেছিস আজ থেকে প্রায় এক মাস দেখা হবে না।”
“সে কি আর ভাব্ছি না। এক মাস। কিন্তু থাক। এটা ভালর জন্যই। ভবিষ্যতের জন্য।”
“মানছি। আর সেই জন্যই তো বলছি এখন মাইন্ড ফ্রেস কর। প্রান ভরে আমার সাথে কথা বল। আমি তোকে দেখি।”
“ও হো । আর আমি দেখব না বুঝি।”
“আমাকে আবার দেখার কি আছে। টেরিকটের প্যান্ট আর গান্ধী চশমা।”
“ওটাই হয়ত আমার ভালো লাগে।”
“আজ কি আমি পরিক্ষার আগে আসতেরিক্স এর পানীয় পেতে পারি?”
“আবার হেঁয়ালি শুরু।”
“না , মানে ইয়ে। মানে ওই। মানে বুঝতেই পারছিস।”
“ও – ও – ও –ও আচ্ছা। সেটা বুঝি দশটা হাতির বল এনে দেবে।”
“সে আর বলতে।”
“না মোটেই না। বরঞ্চ বিভ্রান্ত করে দিতে পারে। এ এক নেশা।”
“নেশা তো বটেই। উজ্জিবিত করাই তো কাজ। ”
“কিন্তু কিছুক্ষন না পেলে আবার তো সেই নেশা চাগবে। তখন।”
“তখন আর কি…… শোন অনেক ভেজাল ন্যাকামো করেছি। হায়ার সেকেন্ডারি দিতে যাচ্ছি। এক বিদায় চুম্বন তো বনতা হ্যায়।“
“ও ব্বাবা এ তো যুদ্ধে যাচ্ছে মনে হচ্ছে।”
“হ্যা নারী, সাম্নের গলি অন্ধকার। এ অন্ধকারে স্বপ্নও দেখা যায় আর খুনও করা যায়।”
রাস্তার এই ছোট্ট অংশটা সত্যি বেশ অন্ধকার। ডান পাশে কুড়ি ফুট দেওয়াল। একটা হার্ডওয়্যার কম্পানি। ওপাশ থেকে আলো এসে রাস্তায় পড়ে না। আর এক পাশে ছোট একটা মাঠের মতন। গুটি থেকে সিল্ক বার করার কুটির শিল্প। রাস্তার গায়ে আর মাঠের শুরুতে কয়েকটি অদ্ভুত কাঠের কল লাগানো আছে তাঁতের মত দেখতে। আর মাঠের ওপর অজস্র খুঁটি পোঁতা। দিনের বেলা লম্বা লম্বা নানা রঙের সিল্কের আঁটি  আটকানো থাকে। রৌদ্রে চকচক করে নীল লাল সুতোর আঁটি গুলো। মাঠের এক ধারে বাউন্দারি দিয়েছে বেশ কয়েকটা দেবদারু গাছ। আর তার পেছনেই আজ থেকে এক বছর আগে এক জ্যোৎস্না সন্ধ্যায় দিব্য অটবী কে প্রথম চুম্বন করে।
সেদিনের ধস্তাধস্তি যেকোনো সময় এসে হাজির হয় তাদের আলোচনায়।
“তার মানে আবার আমাকে সেই গাছের পিছনে নিয়ে যাবি?”
“এমন বলছিস যেন তোকে রেপ করতে নিয়ে গেছিলাম।”
“খুব একটা কিছু কম ছিল না সেটা।”
“যা তা বলিস না। প্রথম বার ওরকম হয়ই।”
“মোটেই না। প্রীতি বলেছিল ওর প্রথম চুমুর কথা। কত শান্ত সুন্দর। ঠিক সিনেমার মত।”
“হ্যা , এক পক্ষ পারদর্শী ছিল। এরকম ব্র্যান্ড নিউ জিনিস তোর প্রীতি পায়নি। তুই যদি ছিবড়ে নিয়ে খুশি হতিস তাহলে ওই সিনেমার মত ফ্রেঞ্চ কিস পেতিস।”
“আচ্ছা ফরাসীরাই কি এই ধরনের কিস করত। বাকিরা কি পারত না।”
“ধুর এসব সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার এর সময় বেরিয়েছে আর পৃথিবী তো বসেই আছে কপি করার জন্য। ফরাসিরাই কি শুধু আলু ভাজত।”
“আচ্ছা ঠিক আছে। তা আজকে কি সাহেবের শুধুই অধর চুম্বন না অন্য কিছুও সাইডে আছে।”
“দেখ, সব কিছু ইম্প্রম্পটু হয়। এত ডিসকাস করে বিবাহিতরা এগোয়। চৌষট্টি কলা, পঞ্ছান্ন বেদানা, বত্রিশ পাটি 

দম ফাটা হাসি ঠোঁট দিয়ে চেপে নিল অটবী। জায়গাটা নিশ্চুপ কিন্তু আসে পাশে বাড়ি আছে। কে জানে কে কোথায় বারান্দায় বেরিয়ে আসবে আর বড় টর্চ ফেলবে ওদের ওপর। ব্যাস নীতির বোঝা নিয়ে বেরিয়ে যেতে হবে।

সাইকেল রাস্তার ধারে একটা বাড়ির দেওয়ালে এমন ভাবে রাখল যাতে মনে হয় অনেক দিন ধরে এখানে পরে আছে সাইকেলগুলো। যাতে রাস্তায় জাতায়াত করা লোকেদের সন্দেহ না হয়। প্রথমে অটবীর লেডিস সাইকেলটা রেখে তার ওপর নিজের সাইকেল রাখতেই দেখে চারটে লোক ওদের দিকে তাকাতে তাকাতে ওদের পার করে চলে যাচ্ছে। দেখে বিশেষ ভদ্রলোক মনে না হলেও নেহাতই নিরীহ মনে হল। ওরা চলে জেতে দুদিকের রাস্তায় চোখ বুলিয়ে যখন ওরা দেখল কেউ আসছে না, তখন  দুজনে দৌড়ে গিয়ে সোজা পূর্বনির্ধারিত  গাছের পিছনে।
এই গাছটা অটবী চিনে রেখেছিল আগে থেকে। অন্যান্য দেবদারু গাছগুলোর থেকে এর গুঁড়ি একটু বেশি মোটা। দিব্যর কাঁধের থেকে প্রায় চার ইঞ্ছি বেশি চৌরা । গাছের পেছনেই একটি বাড়ির দেওয়াল কিন্তু দেওয়ালের ওপারে বাড়িটির পেছন দিক, তাই সামনের আলো বেশি পৌছায়না। তবে এক মায়াবি আলো ছেয়ে থাকে জায়গাটায়। অন্ধকারে চোখ সয়ে গেলে জায়গাটা পরিস্কার দেখা যায়। আবার রাস্তার থেকে যদি কোনো গাড়ি জোরালো আলো ফেলে তাহলেও গাছের গুঁড়ি সেই আলো আটকে দেয়। দিব্য লক্ষ্য করেছে গাছের পেছন থেকে বেশ কিছুটা দুরত্বও দেখা যায় যাতে হঠাৎ করে কেউ এসে পরলে এক ছুটে মাঠের খোলা জায়গায় চলে আসা যায় বা উর্দ্ধশ্বাসে দৌড়ে পালানো যায়। অসাধারন গুপ্ততা ছেয়ে থাকে গাছের পিছনে।

অটবী গাছের গুঁড়ি তে হেলান দেয়। দুষ্টু মিষ্টি হাসি লেগে থাকে মুখে। সয়ে যাওয়া চোখে অন্ধকারে ফুটে ওঠে দিব্যর মুখ। দিব্য তার বাঁ হাত রাখে অটবীর কাঁধ ছুয়ে গাছের ওপর। ডান হাত রাখে অটবীর গালে। মাদক দৃষ্টি দুজনার চোখে। এজায়গায় শুধু ঠোঁট নড়ে কিন্তু শব্দ শুধু শোনা যায় দ্রুত নিঃস্বাশ । আলতো এক স্পর্শে দিব্য তার ঠোঁট ভিজিয়ে নেয়। চোখ বন্ধ হয়ে যায় অটবীর। ডান হাত দিয়ে অটবীকে বুকের কাছে টেনে আনে দিব্য। গভীর নিবিড়তায় অসাড় হয়ে অটবী এলিয়ে পড়ে দিব্যর বুকে। অটবীর বন্ধ চোখে হারিয়ে দিব্য পরিবর্তন করতে থাকে ঠোঁট। হঠাৎ একটা তীব্র ফ্ল্যাশলাইট এসে পড়ে মুখে।

থতমত খেয়ে আটকে যায় দিব্য। অটবীর জ্ঞান ফেরে। দু হাত দূরে ডান দিক থেকে আলোটা প্রায় কাছে এসে পড়ে। পালানোর পথ নেই । লক্ষ্য করেনি তারা দুটো গাছের পরে আরেকটা গুঁড়ির নিচে একটি লোক গাঁজা টানছিল। আচমকা আলো চোখে ধাঁধা লাগিয়ে দেওয়ায় কিছু দেখতে পারছিলো  না দুজনেই। টর্চটা পুরো মুখের ওপর মেরে লোকটা এগিয়ে আসছিল। টর্চ থেকে চোখ সরাতে পেছনে ফিরতেই অটবী চাপা আর্তনাদ করে ওঠে। পেছন ফিরে দেখে লোকটি অটবীর হাত চেপে ধরেছে। পালানোর পথ নেই।

অপরদিক থেকে আরেকটা জোরালো জ্বলে উঠল। দিব্য হতবাক। আজ কি সত্যি খুব খারাপ দিন। ওরা তো এখানে বার বার আসে না যে দূর থেকে দেখে কেউ ওত পেতে বসে থাকবে। এটাও নয় যে সে অসাবধান ছিল। তাহলে এই দ্বিতীয়  ব্যাক্তি কোথা থেকে এলো? হয়ত আলো দেখে এগিয়ে এসেছে। হয়ত সাহায্যের  হাত বাড়াবে । বাস্তব হল না কল্পনাটা। আগের লোকটা চাপা গলায় বলল, “লাইট বন্ধ কর। ধরেছি মাগীটাকে।” মানে এ শুধু তাদের একার লীলা ক্ষেত্র নয়।
       
“ওকে ছেড়ে দিন। আপনি কি চান বলুন।” পাত্তাই দিল না প্রশ্নের, বলল, “চুপ করে বস।” লোকটা অটবীর হাত ধরে নীচে বসল। দিব্য বুঝতে পারল না যে এরা নেহাতই উটকো লোক। স্বাভাবিক সরলতায় বসে পরল নীচে। পরের লোকটা এসে বলল, “শালা , জায়গাটাকে বিষাক্ত  করে তুলেছে। আমি চললাম।” লোকটার মুখ এক ঝলক দেখে চিনতে পারল দিব্য। মোড়ের মাথায় এর বিড়ি সিগরেটের দোকান। আর কিছু করার নেই। পাড়ার লোকের হাতে ধরা পড়েছে , সহজে ছাড় পাবে না।

        “কোথায় বাড়ি।” দিব্যর দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে  দিতে হতচকিত দিব্য গড়গড়  করে দুজনার নাম ঠিকানা বলে দিল। একবারের জন্য ভাবল না এর পরে কি হতে চলেছে। অটবী কান্না থামিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল দিব্যর দিকে। এতটাই  উজবুকের মত আচরণ। সে শুনেছে পুরুষের দায় নারীকে রক্ষা করা। বসার সময় পাসের ঝোপে লেগে তার ওড়না ছিঁড়ে গেছে। লোকটি তার হাত এমন করে চেপে ধরেছে মনে হয় ছাড়লে হাতে কালশিটের দাগ পরে যাবে। আর দিব্য এইরকম ভাবে হাল ছেড়ে দিচ্ছে। ও কি পারেনা এক ঘুশিতে লোকটার নাক ফাটিয়ে দিতে। নিশ্চয় পারে। সর্বত্র শোনা যায় কি ভাবে প্রেমিকার প্রান বাঁচাতে প্রেমিক কি করে ঝাঁপিয়ে পরে। আর দিব্যর এই আচরণ। ঘেন্নায় কান গরম হয়ে যায় অটবীর।

        দিব্য বসার আগে লোকটিকে ভালো করে লক্ষ্য করেছিল। বসতে গিয়ে হাতের কাছে একটা আধলা ইঁট  পেল। সেটা কাছে সরিয়ে নিয়ে বসেছে সে। কিন্তু কিসের ভীতিতে সে সমস্ত সত্য উগড়ে দিল সেও বুঝতে পারল না। লোকটি অন্তত এক হাত বেঁটে দিব্যর থেকে। এক ঝটকায় হাত টেনে দুটো থাপ্পর মেরে অনায়াসে বেরিয়ে চলে জেতে পারে তারা। কিন্তু কিসের জন্য তাহলে সে অপেক্ষা করছে। দিব্য জানে বিপদে উগ্রতা শেষ কথা। ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যায় সে। অটবীকে স্পর্শ  করেছে, তার প্রতিহিংশা নেওয়ার মত বোকা বোকা প্রেম তার নেই। কিন্তু হঠাৎ আর অদ্ভুত ভাবে সে বলে ওঠে, “আমাদের ছেড়ে দিন। আমরা ভালো ছেলে মেয়ে। সাইন্সের স্টুডেন্ট।” বলেই নিজে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। “সাইন্সের স্টুডেন্ট” – একি তার নিতান্ত বোকাবোকা ঢাল না নিরীহতা  প্রদর্শনের বিচিত্র চেষ্টা। অটবী হাল ছেড়ে দেয়। আর লোকটি খ্যা খ্যা করে হেসে ওঠে , “সাইন্সের স্টুডেন্ট ।। হুহ। ছেড়ে দেব। যাহ ছেড়ে দিছছি। গাছের পেছনে গিয়ে লাগা।”
“না আমরা চলে যাব । প্লিস ছেড়ে দিন।”
“যা বললাম কর। নাহলে ছাড়াছুড়ি  হচ্ছে না।”
“কি বলতে চান আপনি।”
“গাছের পেছনে যা, আমি পাহারা দিচ্ছি। লাগা ওকে।”

দিব্যর হাতে উঠে এলো আধলা ইট কিন্তু এখনও সময় হয়নি। এর থেকে একটু আগে এগোলেই যা করার নয় তাই করতে হবে দিব্য কে। হঠাৎ সেই স্বেতি লোকটা এসে হাজির হল। আবার সেই টর্চ, “ছেড়ে দে ওদের।” এই লোকটি হঠাৎ করে অটবীর হাত ছেড়ে দিয়ে বলল , “সাইন্সের স্টুডেন্ট , হা হা হা এই চত্বরে  যেন আর না দেখি। ” ছাড়া পেয়ে অটবী আর এক বারের জন্য ফিরে তাকাল না দিব্যর দিকে। গায়ে মাটি  লেগে আছে। ছেঁড়া ওড়না। অটবী জৎপরনাস্তি দ্রুততায় সাইকেল তুলে প্যাডেল করতে লাগল। দিব্য সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল লোক গুলির সাথে, আরও কিছুক্ষন। 

আগের গল্পগুলো




Thursday, September 28, 2017

আধ্যানের ডায়েরি - পুজো স্পেশাল



'ত্রাহিমাম  ত্রাহিমাম ।  মা বাঁচাও , মা , ও মা , বাঁচাও ' দুচোখে জল , ভেজা - ছেঁড়া - পোড়া কাপড় , গণেশ এসে মা দুর্গার কোলে ঝাঁপিয়ে পরে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো।  দূর্গা রীতিমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে হ্যান্ড ড্রায়ার দিয়ে চুল শোকানো থামিয়ে গণেশের মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসা করলো , ' কি হলো রে ? এরকম করে কাঁদছিস  কেন।  তুই না সিদ্ধিখোর বাপের সিদ্ধিদাতা গণেশ ?  এরকম ভিজে গেছিস কেন।  আর এই চটচটে জিনিসটা কি ? ' গণেশ তখন ফুঁপিয়েই চলেছে।  কোনো কথা বলতে পারছে না।  ওদিক থেকে লক্ষী , সরস্বতী , কার্তিকও এসে হাজির।  মহাদেব পায়ের কাছ থেকে মাথা তুলে ছিলিমে দু টান মেরে বললো , 'গনশা, সেল্ফ প্রটেকশন এর বুলি , শুধু  আওড়ালেই হয় না।  নিজেকেও কিছু করতে হয়।  মহাভারত লিখেই ক্ষান্ত হয়ে গেলি, এবার বি দা চেঞ্জ।  '

' রাখো  তোমার চেঞ্জ ' , গলা থেকে চিঁ চিঁ করে একটা বিক্ষুব্ধ আওয়াজ বেরিয়ে এলো গণেশের।  ততক্ষনে গণেশের মুখ সাদা হয়ে গেছে।  লক্ষী এসে কড়ে আঙুলের যত্নলালিত বড় নখটি দিয়ে গণেশের মুখে আঁচড় দিতে কিছুটা সাদা হাতে উঠে এলো , 'ও মা , এ  তো  মোম।  গলা মোম কে ঢেলে দিয়েছে তোর গায়ে।  নাকি পড়ে গিয়েছিলিস। '  দূর্গাও তখন হাত দিয়ে দেখে , 'ও মা তাই তো।  বাছা খুলে বল।  তোর বাবা সব জানে , কিন্তু কিছুই তো বলছে না।  ওগো গণশার হলো টা কি ? তুমিই বলে দাও না । '  ওদিকে মহিষাসুর তখন ছিলিমে নতুন গাঁজা পুরে সদ্য আগুন ধরিয়েছে।  খিক খিক করে হেঁসে বললো , 'দেখ কেমন লাগে '

গণেশ হঠাৎ রে রে করে তেড়ে এলো মহিষাসুরের দিকে , 'তুই ব্যাটা সব নষ্টের গোড়া।  ওটা মনে হয় তোরই অবতার। ' 'মা কালির দিব্যি বলছি , আমার অবতার নয়। আমার অবতাররা এখন সিরিয়াতে আছে।  এটা কেষ্টর অবতার। '  দূর্গা হাত ধরে টেনে নিয়ে এলো গণেশকে , 'খুলে বল বাপ।  কার কথা বলছিস। ' গণেশ আবার শান্ত হয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেললো , 'মা আমায় বাঁচাও।  আগের বছর পর্যন্ত সব কিছু ঠিক ছিল।  কিন্তু আজ সেই আধ্যান বড় হয়ে গেছে। আর সেই কিউটনেস ওভারলোডেড নেই।  এখন নৃশংস হয়ে উঠেছে। এই হাল করেছে আমার।  রোজই করছে।  আমি কিছুতেই কিছু করে উঠতে পারছি না। '

এইবার সবাই নড়ে চড়ে উঠলো শুধু শিব ছাড়া।  মহিষাসুরের বাড়িয়ে দেওয়া গাঁজার কল্কেটা তে প্রথম সুখটান দিয়ে বলল , 'বলে যা , সবাই শুনুক' গণেশ বলে চললো , ' সেই মহালয়া থেকে শুরু
করেছে।  ঘুম থেকে বাবা মার আগে উঠে পরে।  আর উঠেই আমার ওপর এটাক।  প্রথম প্রথম চুষে রেখে দিতো।  কিছু বলতাম না।  শিশু , আমাদেরই জাতভাই।  কিন্তু রোজ সকালে এইভাবে কারোর মুখের লালা মাখতে কার ভালো লাগে।  কিন্তু পরশু দিন সোজা আমাকে তুলে নিয়ে ছুঁড়ে দিলো বাথরুমে।  এদিক ওদিক ধাক্কা ফাক্কা খেয়ে উল্টে পাল্টে পড়লাম গিয়ে কমোটের কাছে।  ভাগ্যিস ওর বাবা এসে তুলে নিয়ে গেল।  কিন্তু সে কি ছাড়ার পাত্র।  পরেরদিন হাতে করে নিয়ে এসে কমোটের জলে চোবানোর ব্যবস্থা করেছিলো।  এবার ওর মা বাঁচিয়ে নিলো।  যখন পর পর দু দিন কার্য সিদ্ধি হলো না।  তখন আজকে যেই ওর মা পুজো সেরে উঠেছে সোজা আমায় তুলে জ্বলন্ত মোমবাতির গলা মোমের ওপর ফেলে দিলো।  দেখো কাপড়টাও পুড়ে গেছে।  দেখো, দেখো , এই দেখো। ' গণেশ সোজা দাঁড়িয়ে ছেঁড়া ধুতির দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো।  এতটা পুড়ে গেছে যে গণেশের জকির জাঙ্গিয়া পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। 

মাতৃসুলভ মিষ্টি হাসি নিয়ে মা দূর্গা কিছু বলার আগেই কার্তিক একটা হাড় জ্বালানো হাসি দিয়ে বললো , ' কিন্তু ভাই , ওই ছোট ছোট হাতে তোকে ধরলো কি করে। '  'আমি চাবির রিঙে ছিলাম।  সেখান থেকে আমাকে বেদিতে নিয়ে গিয়ে বসিয়েছে। ' সরস্বতী আরো ফিচেল , ' কি? চাবির রিঙে !! তোর শেষ মেশ এই অবস্থা দাদা। ' গণেশ বুঝলো ভুল দিকে ঘুরে যাচ্ছে ব্যাপারটা , ' না , মানে , ইয়ে।  মানে লোকে মনে করে আমার কাছে চাবি থাকলে ঘর সুরক্ষিত থাকবে তাই আর কি। ' 'কিন্তু তোকে তো খুলে রেখে দিয়েছে।  তার মানে তোর আর দরকার নেই।' কার্তিকের ঠোঁট উল্টে এই কমেন্টে গণেশ ক্ষেপে আগুন, 'দেখ কাতু , তুই টেকনিক্যালি ইনভিসিবল।  খুব একটা পুজো টুজো পাস না।  মায়ের সাথে সেঁটে বসে থাকিস বলে ফুললি প্রটেক্টেড।  আমার ব্যাপারটা সেরকম নয়।  আমাকের ইন্ডিভিজুয়ালি একট করতে হয়।  লোকে আমায় ভয় আর শ্রদ্ধা করে। 'হ্যা কমোটে চুবিয়ে। ' গণেশ এবার বিপাকে , 'মা দেখোনা , দাদা বলছে। '

'এই কাতু তুই চুপ কর আমি ব্যাপারটা দেখছি। '  ' মা শুধু দেখলে হবে না।  কিছু করো। হয় ওকে বিদ্যা বুদ্ধি দিয়ে বড় করে আমাকে ভয় পাওয়াতে শেখাও নয় আমাকে টেম্পোরারি অন্য কোনো জায়গায় ট্রান্সফার করো। ' 'কিন্তু বাবা , ওর তো এখন বাল্যকাল।  এখন তো এসব করবেই।  আমার সাথেও তো করে।  সেদিন একটা ঢাক পেটানোর লাঠি নিয়ে এসে আমার মাথায় এমন মেরেছে যে সারাদিন স্যারিডন খেয়ে থাকতে হয়েছে।  এই পুজোতে তো ফুলও পাচ্ছি না।  চিবিয়ে রেখেছে দিচ্ছে।  এঁটো ফুল আবার আমি একসেপ্ট করিনা। প্রদীপের জায়গায় এখন মোমবাতি জ্বালায় আধ্যানের জ্বালায়।  সেটা ও কে।  কিন্তু সেই পোড়া মোমবাতির সলতে চিবিয়ে রেখে দেয় আর কেউ জানতেও পারেনা।  আমি তো জানি , কারণ আমাকেই উৎসর্গ করা। জগন্নাথ কদিন আগেই কমপ্লেন করেছে , ওর হেলান দেওয়া স্ট্যান্ডটা ভেঙে দিয়েছিলো।  প্রায় ষোলো ঘন্টা মুখ থুবড়ে পড়েছিল।  হাত নেই তাই ওঠার ক্ষমতাও নেই।  শেষে আধ্যানের মা এসে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড় করিয়ে রেখেছে।  সবই দেখছি ,  কিন্তু কি করবো বল।  ওটা শিশু ভোলানাথ।'

'বাহ্ বাহ্।  আমার অবতার বানিয়ে দিলে ওই পোটেনশিয়াল ক্রিমিনাল মাইন্ড কে।  মানছি আমি ধ্বংসের দেবতা, তবে আমি ওসবে নেই। ওরকম অবতার ছাড়লে আমার সুনামে চোনা পরে যাবে।  কি ডেঞ্জারাস মাইরি।  আমার লিঙ্গ ধরে এমন আছাড় মারলো যে দু ফাঁক।  কত কষ্টে স্টিলপ্লেটিং করে বসে আছি।  আমি এসবে নেই।  ওই ছেলে যখন বুড়ো হবে , দেন আই উইল টেক কেয়ার।  মহিশাসুর পারবি ওটাকে কন্ট্রোল করতে। ' মহিশাসুর সুযোগসন্ধানী , 'আমার এই ফি বছর খোঁচার ঘা থেকে ডিসকাউন্ট পাওয়া যাবে কি?' 'না , ওটাই মেন্ সেলিং ফ্যাক্টর। অন্য কিছু চা। '  'তাহলে আর আমি কেন এতো রিস্ক নেবো।  মনস্টার টয় গুলোকে যেভাবে ছুড়ে ফেলে, তোমরা তো কেউ দেখোনি।  তোমরা কমোটে চোবানোর ভয়ে সিঁটিয়ে আছো। আমার টোটাল এক্সিস্টেন্সকে  সে একবার মারে একবার চোবায় , এই ভাবে দিন চলে যায়। ওই লক্ষীই সামলাবে ওকে।  ও তো সবার বাড়িতে লক্ষ্মীশ্রী এনে দেয়।  ওর কাছে ব্যাপারটা ইসি। '

লক্ষী বসে বসে ধানের শীষ চেবাচ্ছিল , ধড়মর করে উঠে বসলো , 'হোয়াই মি।  আমি কি কমপ্লেন করেছি।  আমার মনেও দুঃখ আছে।  আমিও অত্যাচারিত , জর্জরিত , নিপীড়িত ...' গলা আটকে ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেললো লক্ষী।  দূর্গা তার চতুর্থ হাত বাড়িয়ে লক্ষীর মাথায় হাত রেখে বললো , 'বল মা , তুইও বল।  বুঝতে পারছি খুব কষ্টে আছিস। ' কাঁদতে কাঁদতে নাক দিয়ে সর্দি বেরিয়ে এলো লক্ষীর।  দূর্গা ষষ্ঠ হাতের কুঠার সরিয়ে একটা কাপড় তুলে নাক মুছিয়ে দিতে লক্ষী বললো , ' মা , ওই বাড়িটাতে সত্যিই আমি বিরাজ করতাম। ঝকঝকে তকতকে সব কিছু ছিল।  কি সুন্দর সুন্দর সব ডিভাইস।  সব কিছু জায়গায় জায়গায় সাজানো থাকতো।  আর এখন সারা কার্পেট জুড়ে ভাতের দানা।  আধ্যান কিন্তু খাবে না, শুধু ছড়াবে।  আর সেটা পরে মাড়াবে।  সেটা পরে শুকোবে।  সেটাই আবার খাবে।  পায়খানার রোল খাবার টেবিলে , রাস্তার জুতো স্টোভটপে , ছাড়া ডাইপার বিছানায় এমনকি একটা বিছানায় তো সে নিজের বাথরুম বানিয়ে ফেলেছে।  ডাইপার ছাড়ালেই সুসু করে দেয়।  আমার পাঁচালি চিবিয়ে চিবিয়ে ,জল ঢেলে , নাল ফেলে একটা ঢোল বানিয়ে দিয়েছে।  ওর মা পড়াও বন্ধ করে দিয়েছে।  সারাদিন এখানকার জিনিস ওখান করছে। নিজের বাবা মার মধ্যে ঝগড়া বাঁধিয়ে দেয় নিজের গু চটকে।  আমার গা ঘুলিয়ে ওঠে।  তার উপর চিৎকার।  কান পাতা দায়।  সরস্বতী তো এটলিস্ট ওর বিদ্যা বুদ্ধি বাড়িয়ে দিতে পারে।  তবেই তো ল্যাঠা চুকে যায়।  আমি কেন ? আমি মেন্টালি ওই বাড়িটা অনেক আগেই ভ্যাকেট করে দিয়েছি। '

'আমি জানতাম সব কিছু ঘুরে ফিরে শেষেমেশ আধ্যানের বিদ্যা বুদ্ধির ওপরেই আসবে আর আমাকে নিয়ে টানা হ্যাঁচড়া হবে।' গম্ভীর গলায় সরস্বতী বলে চললো , ' আমি চেষ্টা অনেক করেছি।  কিন্তু ব্যাটার এখনো কনসোনেন্ট এ ইন্টারেস্ট নেই।  শুধু এ , ই , আই আর  ও।  যেহেতু নিজেকে ছাড়া কাউকে পাত্তা দেয়না , তাই  ইউ ও বলে না।  কি যে ভাবে কে জানে।  লার্নিং হবে কি করে, যদি ওর কাছে প্রিয় গায়ক শাকিরা হয়।  হিপ্স ডোন্ট লাই , এটা থেকে কি শিক্ষা পাচ্ছে।  টিভি ছাড়া খাবে না।  আর টিভিতে ঠিকঠাক নার্সারি রাইমও শুনবে না।  উত্তেজক জিনি ইন দা বটল শুনে হি হি করে হাঁসবে।  যখন পেটে ছিল তখন মিউসিক ভালোবাসতো , আমার শান্তি ছিল।  যে বাচ্চারা মিউসিক শোনে , তাদের শেখানো খুব একটা কঠিন হয়না।   কিন্তু এ যেহারে ওর মিউজিক্যাল খেলনা গুলোকে পেটায় , তাতে শুধু কুস্তি শেখানো ছাড়া আর কিছু শেখানো যাবে না।  আমি হাত তুলে দিয়েছি বাবা।  সবাইকে শেখানো যায় কিন্তু এ একটা এক্সট্রিম এঁড়ে মানুষ।  মা , কন্ট্রোল ইট।  তোমাকেই বলে না , সৃষ্টি স্থিতি বিনাশায় শক্তিভুতে সনাতনী , গুণাশ্রয়ে গুণময়ে , নারায়ণী নমস্তুতে।  ইউ টেক কেয়ার।  আমার দ্বারা হচ্ছে  না। '

গণেশ জুলজুল করে সবার দিকে তাকিয়ে আছে।  সবার কথা শুনে সে বেশ লজ্জিত।  সবাই নিজের কষ্ট কিভাবে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে যাচ্ছে।  সেই শুধু কমপ্লেনিং।  চিন্তিত দুর্গার মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ মুছে গণেশ বললো, 'মা , একি বাল্মীকি কেস নাকি?' . দূর্গাও ব্যাপারটা সেই এঙ্গেলেই চিন্তা করছিলো।  অনেক ভেবে নাম দিয়েছিলো আধ্যান।  কিন্তু এ তো রত্নাকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।  অলরেডি নাম যেহেতু আধ্যান  দেওয়া হয়ে গেছে , তাহলে ভবিতব্য তো ব্রম্ভা লিখেই গেছে।  মাথা ঘুরিয়ে স্বরস্বতী কে প্রশ্ন টা ছুঁড়ে দিতে স্বরস্বতী বললো , ' আমার সাথে ব্রম্ভার কয়েকদিন ধরে আড়ি চলছে।  চার মাথা দিয়ে চারপাশে ঝাড়ি মারে।  আমি খোঁজ নিতে পারবো না। '  'দেখ মা , আমাদের জানাটা খুব দরকারি।  এ ছেলে যদি রত্নাকরের মতো বড় হয়ে  বাল্মীকি হয়ে যায় , দেন ইট ইস ফাইন।  কিন্তু না হয়ে যদি রাবনের মতো পলিটিকাল দস্যু তৈরী হয় তাহলে আবার অকাল বোধনের টাইম পাল্টে যাবে।  অলরেডি বছরে দু দুবার এই নোংরা গঙ্গা জলে ভাসতে আমার চুলের বারোটা বেজে গেছে।  আর একটা অকাল বোধন হলে মুশকিল হয়ে যাবে।  তুই একটু ম্যানেজ করে দে মা।  হাজার হোক স্বামী তো। '


'আচ্ছা দেখছি দেখছি।  তবে , গণেশ দাদা এখনকার মতো ইতি টানো।  সবাই সহ্য করছি , তুমিও করো।  এখন সারা বছরের রসদ সংগ্রহ করার সময়।  ওই পুঁচকে আধ্যান কাঠপিঁপড়ের মতো  আটখানা দাঁত বার করে কামড়াতে পাড়বে বটে কিন্তু আমাদের উৎখাত করতে পারবে না।  লেটস এনজয় দা পার্টি।  তারপর ব্যাপারটা নিয়ে দেখা যাবে। '  সবাই চুপচাপ দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলছে দেখে দুর্গার মনে হলো মুড চেঞ্জ করা দরকার।  একটা মুচকি হেসে বললো ,  ' যাই বলো আধ্যান কিন্তু গণশার মতোই কিউট এন্ড এডরেবল।  তাইজন্যেই গণশার পেছনে পড়েছে। '   ব্যাস , সবাই একমত।  লক্ষী সরস্বতী শুরু হয়ে গেলো তাদের নারীসুলভ "কিউটনেস এডিকশান" মার্কা ভাষণ দিতে।  আর গণেশ বেচারা লজ্জায় লাল হয়ে বসে বসে ভাবতে থাকলো , বাল গণেশ আর আধ্যানের মধ্যে মিল গুলো।    

আধ্যানের ডায়েরির আগের পাতাগুলো